{{ news.section.title }}
ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি, ইসরায়েলি সেনার ৫ বছরের কারাদণ্ড
ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক ইসরায়েলি সেনাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি সামরিক আদালত। একই সঙ্গে তাকে সামরিক পদমর্যাদা থেকে অবনমিত করা হয়েছে এবং অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তে ইসরায়েলের সামরিক পুলিশ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত (Shin Bet) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত সেনা ২০২৫ সালে ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে একটি বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং এমন তথ্য সরবরাহ করেন, যা শত্রুপক্ষের জন্য উপকারী হতে পারত। আদালতে তিনি বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ এবং শত্রুর উপকারে আসতে পারে এমন তথ্য সরবরাহের অভিযোগ স্বীকার করেন।
তদন্তে জানা যায়, সেনাটি প্রথমে ব্যক্তিগত টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কাজের প্রস্তাব পান। পরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন এজেন্ট তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন স্থানের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের দায়িত্ব দেয়। তিনি ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যক্রম এবং বিভিন্ন স্থানের ভিডিও ধারণ করে ওই এজেন্টের কাছে পাঠান। এর বিনিময়ে তিনি অর্থও গ্রহণ করেন।
আইডিএফ জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সেনাটি কোনো গোপন সামরিক নথি বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য সরবরাহ করেননি। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, অভিযুক্ত পরবর্তীতে নিজ উদ্যোগে ওই এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেন এবং বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। এসব বিষয় শাস্তি নির্ধারণের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে দণ্ডপ্রাপ্ত সেনার নাম, ইউনিট কিংবা তার সরবরাহ করা তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। আইডিএফ বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইসরায়েলিদের নিয়োগের চেষ্টা বাড়িয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তা বাহিনী এ ধরনের যোগাযোগ সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত দুই বছরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইসরায়েলে একের পর এক গ্রেপ্তার ও বিচার দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, অর্থের বিনিময়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নতুন কৌশল গ্রহণ করছে।