যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে: আইআরজিসি

যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে: আইআরজিসি
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ ও নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ‘বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষার’ অজুহাতে ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। তাদের ভাষ্য, এসব হামলার মাধ্যমে ওয়াশিংটন নিজের সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে। আইআরজিসি আরও দাবি করে, ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা নৌপথ অমান্য করে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার মতো কোনো জাহাজও সেখানে ছিল না। ফলে জাহাজে হামলার যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোকে তারা ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে।

 

সংস্থাটি স্পষ্ট করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘হস্তক্ষেপ’ এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানো হলে এর জবাবে অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

 

এদিকে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ এনেছেন। তিনি দাবি করেন, এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং তা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। ইরাভানির ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসী, কোনোভাবেই ভুক্তভোগী নয়।”

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে ওয়াশিংটন সরে এসেছে এবং পরিকল্পিতভাবে ওই সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পথ বাধাগ্রস্ত করেছে। তেহরানের দাবি, সাম্প্রতিক সামরিক হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত সমঝোতার কাঠামো ভেঙে দিয়েছে।

 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তাদের সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং উপকূলীয় হামলার সক্ষমতা দুর্বল করাই তাদের অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও বহাল রেখেছে।

 

বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ