{{ news.section.title }}
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই পাবে না: রাষ্ট্রদূত
যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি। তিনি বলেছেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সক্রিয় কূটনীতি এবং জাতীয় ঐক্যের সমন্বয়ে ইরান এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে বাহ্যিক চাপ বা আগ্রাসনের মাধ্যমে দেশটিকে দুর্বল করা সম্ভব নয়।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি-তে প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক শক্তির নতুন জ্যামিতি’ শীর্ষক এক নিবন্ধে জালালি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যই ব্যর্থতা এবং আরও বড় ক্ষতির কারণ হবে। তাঁর ভাষায়, সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, আক্রমণকারী পক্ষের ক্ষয়ক্ষতিও তত বাড়বে।
জালালি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তার প্রতিরক্ষা নীতি, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং জাতীয় সক্ষমতাকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানের কৌশলগত অবস্থান আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো এখন ইরানের ভূমিকা উপেক্ষা করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইরানের কূটনৈতিক নীতির ভিত্তি হলো জনগণের সমর্থন ও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা। তাই বাহ্যিক সামরিক চাপ কিংবা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তেহরানের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা চলতি বছরকে ‘জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় নিরাপত্তার ছায়ায় প্রতিরোধ অর্থনীতির বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
নিবন্ধে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিকেই দায়ী করেন জালালি। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানগুলো কৌশলগত শক্তির প্রকাশ নয়; বরং তা রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পশ্চিম এশিয়াকেন্দ্রিক নীতিতে এখন একটি স্পষ্ট কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
জালালির মতে, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা, গুপ্তহত্যা এবং সামরিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিরোধশক্তিকে দুর্বল করার যে কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে, বাস্তবে তা উল্টো ফল দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এসব পদক্ষেপ ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতাকে দুর্বল না করে বরং আরও সুসংগঠিত ও দৃঢ় করেছে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক ভূরাজনীতিতে তথ্যযুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-কে তিনি ইরানের জন্য একটি নতুন কূটনৈতিক ফ্রন্টলাইন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ডিজিটাল কূটনীতির মাধ্যমে তেহরান আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের অবস্থান তুলে ধরছে এবং পশ্চিমা বয়ানের পাল্টা ব্যাখ্যা দিচ্ছে।
জালালির দাবি, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা, আঞ্চলিক জোট এবং তথ্যযুদ্ধ-এই তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে ইরান তার কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং সক্রিয় কূটনীতির সমন্বয় ভবিষ্যতের যেকোনো ভূরাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ইরানকে আরও প্রস্তুত করে তুলবে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ