{{ news.section.title }}
২৩ বছর পর অবশেষে ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী
প্রায় ২৩ বছর পর ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটিতে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন সেনা ফিরে যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতনের লক্ষ্যে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা মনে করি না, সেখানে (ইরাকে) আমাদের সামরিক বাহিনী রাখার আর প্রয়োজন আছে।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক মূলত অর্থনীতি, জ্বালানি ও বিনিয়োগকেন্দ্রিক হবে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদিও জানান, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব মার্কিন সেনা ইরাক ত্যাগ করবে, তবে মার্কিন কোম্পানিগুলো দেশটিতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তাঁর ভাষায়, “আমেরিকান সেনারা চলে যাবে, কিন্তু আমেরিকান কোম্পানিগুলো ইরাকে থাকবে।”
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানায়, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তি অনুযায়ী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী যৌথ সামরিক মিশন ধাপে ধাপে সমাপ্ত করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল, যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ইরাকে অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম হোসেন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। পরে ২০১১ সালে অধিকাংশ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলেও, ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর উত্থানের পর আবারও মার্কিন বাহিনী ইরাকে ফিরে আসে এবং ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইএসের সক্ষমতা কমে যাওয়ার পর বাগদাদ ও ওয়াশিংটন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হয়।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস একাধিকবার ড্রোন ও রকেট হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলার দায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক স্বীকার করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। যদিও সামরিক উপস্থিতি শেষ হচ্ছে, ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, জ্বালানি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ইরাকের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাম্পও বৈঠকে ইরাকের বিপুল তেলসম্পদ এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।