{{ news.section.title }}
যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: লুলা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ নিরাপত্তা ফি আরোপের মার্কিন পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে তিনি ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, বহু বছর ধরে জলদস্যুতার বিরুদ্ধে লড়াই করা একটি পরাশক্তি এখন নিজেই সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে না।
সাও পাওলোতে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে লুলা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং এর বিনিময়ে ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি কার্গো জাহাজের পণ্যের মূল্যের ২০ শতাংশ আদায় করবে। লুলার ভাষায়, “অতীতে এ ধরনের কাজকে জলদস্যুতা বলা হতো। যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের কাছ থেকে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।”
লুলা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌচলাচল আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি। কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে বৈশ্বিক বাণিজ্যপথ ব্যবহারকারী সব জাহাজের ওপর একতরফাভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করবে এবং হরমুজ প্রণালিকে উন্মুক্ত রাখতে মার্কিন বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয়ের অংশ হিসেবে প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত সব কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “Guardian of the Hormuz Strait” বা হরমুজ প্রণালির রক্ষক হিসেবে অভিহিত করেন।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব ইতোমধ্যেই ব্রাজিলের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। তাঁর মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি চাল, ডাল, টমেটো, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলছে।
লুলা জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে তাঁর সরকার জ্বালানির ওপর কিছু কর-সুবিধা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে কয়েকটি জরুরি অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যপথকে রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবং প্রণালিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।