ইরান শুধু বড় কথাই বলতে পারে, আজ রাতেও হামলা চালাব: ট্রাম্প

ইরান শুধু বড় কথাই বলতে পারে, আজ রাতেও হামলা চালাব: ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত রাখবে এবং তেহরান এর কার্যকর কোনো জবাব দিতে পারবে না। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং নতুন করে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্ট এবং পরে হিউ হিউইট শো-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "আজ রাতেও আমরা ইরানে হামলা চালাব, আগামী রাতেও হামলা চালাব। তারা কিছুই করতে পারবে না।" একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

 

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখবে। তিনি বিশেষভাবে "পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন" নামে পরিচিত একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনার কথাও উল্লেখ করেন, যেটিকে তিনি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো হিসেবে বর্ণনা করেন।

 

এই ঘোষণার মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে, তারা টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করা, যাতে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা যায়।

 

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাস, কিশ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ এবং বুশেহর অঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

 

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছে। একই সময়ে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার দাবি করেছে।

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ধারাবাহিক সামরিক হুমকি এবং পাল্টাপাল্টি অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। বিশেষ করে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবহনকারী হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ