আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড, কাদের এগিয়ে রাখছে সুপারকম্পিউটার?

আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড, কাদের এগিয়ে রাখছে সুপারকম্পিউটার?
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দেখতে দেখতে শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে গেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল-ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী একটি শেষ চার দেখছে বিশ্বকাপ। এবার প্রশ্ন একটাই-কে উঠবে ফাইনালে, আর কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ১০ হাজারেরও বেশি ম্যাচ সিমুলেশন চালিয়েছে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপারকম্পিউটার। দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, ফিফা র‌্যাঙ্কিং, আক্রমণ-রক্ষণ পরিসংখ্যান, প্রত্যাশিত গোল (xG), স্কোয়াডের শক্তি এবং নকআউট ব্র্যাকেট বিবেচনায় সম্ভাব্য ফলাফল প্রকাশ করেছে তারা।

 

অপ্টার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে। দুই দলের সম্ভাবনা প্রায় সমান হলেও সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডকে।

 

সুপারকম্পিউটারের হিসাব বলছে, ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ইংল্যান্ডের ৫০.৯৬ শতাংশ, যেখানে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৪৯.০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এই সেমিফাইনালে পরিষ্কার কোনো ফেবারিট নেই; সামান্য ব্যবধানই দুই দলকে আলাদা করছে।

 

শুধু তাই নয়, ৯০ মিনিটের ফলাফলের সম্ভাব্য হিসাবেও এগিয়ে ইংল্যান্ড। অপ্টার মতে, নির্ধারিত সময়ে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৩৮.৯ শতাংশ, আর্জেন্টিনার ৩৪.১ শতাংশ, আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৭ শতাংশ।

 

শিরোপা জয়ের দৌড়েও দুই দলের ব্যবধান খুবই কম। অপ্টার সর্বশেষ সিমুলেশনে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ২১.৯৪ শতাংশ, আর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ২০.৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ সেমিফাইনালের ফলই দুই দলের শিরোপা ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারণ করবে।

 

অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে প্রকাশিত অপ্টার সর্বশেষ পূর্বাভাসে ফ্রান্সকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে দেখানো হয়েছে। দিদিয়ের দেশমের দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, আর স্পেন রয়েছে তাদের ঠিক পেছনেই।

 

পরিসংখ্যানের পক্ষে যুক্তিও রয়েছে। ফ্রান্স টুর্নামেন্টজুড়ে সবচেয়ে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে দুয়ের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ সবচেয়ে বেশি মানসম্পন্ন সুযোগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে পর্যন্ত একটিও গোল হজম করেনি লা রোহা।

 

আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে অপ্টা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে তাদের মানসিক দৃঢ়তার কথা। কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন নকআউট ম্যাচ জিতে তারা শেষ চারে উঠেছে। তবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং রক্ষণে কিছু দুর্বলতা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাসে ইংল্যান্ডকে সামান্য এগিয়ে রেখেছে।

 

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইনের ফর্মকে। পাশাপাশি বড় সুযোগ (Big Chances) তৈরির দিক থেকে টুর্নামেন্টে সবার ওপরে রয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। সেটিও তাদের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

 

তবে ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো-পরিসংখ্যান সবসময় শেষ কথা বলে না। ২০২২ সালে অপ্টার অন্যতম ফেবারিট ছিল না আর্জেন্টিনা, অথচ শেষ পর্যন্ত ট্রফি উঠেছিল লিওনেল মেসিদের হাতেই। তাই সুপারকম্পিউটার সম্ভাবনার হিসাব দিলেও মাঠের ৯০ মিনিটই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, কে খেলবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের মহারণ।


সম্পর্কিত নিউজ