{{ news.section.title }}
আরেকটি সেমিফাইনাল, আরেকটি স্বপ্ন; সুইস বাধা পেরিয়ে আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটির নাটকীয় এই ম্যাচে জয়ের জন্য ১২০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকারিতায় জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে ছিল স্বস্তি, আনন্দ আর আত্মবিশ্বাসের মিশ্র অনুভূতি। খেলোয়াড়দের ভাষ্যেও ফুটে উঠেছে সেই লড়াকু মানসিকতা, যা গত কয়েক বছর ধরে আর্জেন্টিনাকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম সফল দলে পরিণত করেছে।
মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস বলেন, "আমাদের সব সময়ই ভুগতে হয়। কিন্তু আমরা যা করছি, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমরা আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। প্রতিদিন এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করছি।"
কোয়ার্টার ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল পারেদেসকে ঘিরে ভিএআর নাটক। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রেল এম্বোলোর সঙ্গে সংঘর্ষের পর রেফারি প্রথমে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, এম্বোলো ফাউলের চেষ্টা না করে ডাইভ দিয়েছিলেন। এরপর পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করে উল্টো এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। নতুন ভিএআর "মিস্টেকেন আইডেন্টিটি" প্রোটোকলের আওতায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।
ম্যাচ শেষে পারেদেস বলেন, "প্রতিপক্ষ কে, সেটা নিয়ে আমরা ভাবিনি। আমাদের পুরো মনোযোগ ছিল এই ম্যাচে, কারণ আমরা জানতাম এটি অত্যন্ত কঠিন হতে যাচ্ছে। এখন আমি ভালো আছি, শুধু কিছুটা ক্লান্তি রয়েছে।"
বাম প্রান্তের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোও দলের এই ধারাবাহিক সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা শুধু ম্যাচ জিতছে না, বরং গত কয়েক বছর ধরে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে।
তাগলিয়াফিকো বলেন, "অনেক সময় আমরা হয়তো এই অর্জনের গুরুত্ব ঠিকভাবে উপলব্ধি করি না। আমরা আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে আমরা নিয়মিত বড় মঞ্চে লড়াই করছি এবং আমাদের জয়ের ক্ষুধা এখনও একই রকম আছে।"
তবে জয় পেলেও দলের খেলায় আরও উন্নতির প্রয়োজন দেখছেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার।
"আমরা আরও ভালো ফুটবল খেলতে চাই। গত বিশ্বকাপে যেভাবে খেলেছিলাম, সেই রূপে ফিরতে চাই। কিন্তু একই সঙ্গে বাস্তবতাও মেনে নিতে হবে। এখন ফুটবল অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ছোট দল বলে কিছু নেই। সবাই লড়াই করছে। সামনে যে ম্যাচটি আসছে, সেটি আরও কঠিন হবে।"
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও আর্জেন্টিনার এই জয়কে সহজ হিসেবে দেখছে না। রয়টার্স লিখেছে, স্কোরলাইন ৩-১ হলেও ম্যাচটি ছিল অনেক বেশি কঠিন। সুইজারল্যান্ড ১০ জনে নেমেও অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চাপে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত জুলিয়ান আলভারেজের দূরপাল্লার দুর্দান্ত গোল এবং লাওতারো মার্টিনেজের শেষ মুহূর্তের গোলই পার্থক্য গড়ে দেয়।
অন্যদিকে দ্য গার্ডিয়ান ম্যাচটিকে "ড্রামা, বিতর্ক ও ধৈর্যের পরীক্ষা" হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বিশেষ করে ভিএআরের সিদ্ধান্ত এবং এম্বোলোর লাল কার্ডকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
এই জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এখন তাদের সামনে ইংল্যান্ড। আর পারেদেস-তাগলিয়াফিকোদের কথাতেই স্পষ্ট-সেমিফাইনালে ওঠাই শেষ লক্ষ্য নয়, শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন এখনও অটুট।