{{ news.section.title }}
ফাইনালের আগে ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ-পরবর্তী উদযাপন শুধু মাঠের জয়ের জন্যই নয়, রাজনৈতিক এক বার্তার কারণেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর জয়ের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠেন। সেই সময় দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের হাতে দেখা যায় একটি ব্যানার, যাতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, "Las Malvinas son Argentinas"-বাংলায় যার অর্থ, "মালভিনাস (ফকল্যান্ড) আর্জেন্টিনার"। ব্যানারটি বহন করতে দেখা যায় লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসোকে। পরে আরও কয়েকজন সতীর্থও তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
ব্যানারটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। কারণ, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ-যাকে আর্জেন্টিনা "ইসলাস মালভিনাস" নামে উল্লেখ করে-দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে অন্যতম স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। যুদ্ধ শেষে দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে যুক্তরাজ্য, যদিও আজও এর সার্বভৌমত্বের দাবি করে আসছে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই সেই ইতিহাস নতুন করে সামনে চলে আসে। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত 'হ্যান্ড অব গড' গোল এবং পরবর্তীতে করা 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি' ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি। পরে ম্যারাডোনা নিজেই বলেছিলেন, সেই জয় ছিল "ফুটবলের মাধ্যমে প্রতীকী প্রতিশোধ"।
তবে এবারের ম্যাচের আগে দুই দেশের ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ, রাজনৈতিক সংঘাতের পুনরাবৃত্তি নয়। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, "এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়।"
ম্যাচ শেষে ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় সেই বার্তা অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এটিকে ম্যাচ-পরবর্তী উদযাপনে রাজনৈতিক বার্তার প্রকাশ হিসেবে দেখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে ফকল্যান্ড যুদ্ধের আর্জেন্টাইন যুদ্ধ–প্রবীণদের সংগঠন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ম্যাচটিকে যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবে দেখার পক্ষে নয়। তাদের মতে, এমন ম্যাচগুলো মালভিনাস ইস্যু আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার একটি সুযোগ হতে পারে, তবে সেটিকে ঘৃণা বা প্রতিশোধের ভাষায় উপস্থাপন করা উচিত নয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার শৃঙ্খলাবিধিতে মাঠ কিংবা ম্যাচ-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক উদযাপনে রাজনৈতিক বার্তা, ব্যানার বা প্রতীক প্রদর্শনের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে আর্জেন্টিনার উদযাপনের এই ঘটনা ফিফার নজরে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে ফিফা কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়নি।
এমন বিতর্কের মধ্যেই আর্জেন্টিনা এখন বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে তারা ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেনের। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফকল্যান্ড ইস্যু ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন এই বিতর্কও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।