ইসরায়েলকে নিষিদ্ধের দাবিতে ফিফার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে নরওয়ে

ইসরায়েলকে নিষিদ্ধের দাবিতে ফিফার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে নরওয়ে
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী এআই জেনারেটেড ছবি

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে নরওয়ে। মাঠে সমর্থকদের প্রতিবাদ বা খেলোয়াড়দের অবস্থান প্রকাশের পাশাপাশি এবার ফিফা ও উয়েফার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম পলিটিকো, নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ঘোষণা দেয়, ম্যাচ থেকে অর্জিত উদ্বৃত্ত অর্থ গাজার মানবিক সহায়তায় দান করা হবে। সেই ম্যাচে গ্যালারিজুড়ে দেখা যায় ফিলিস্তিনি পতাকা, কেফিয়াহ এবং ‘Let the Children Live’ লেখা ব্যানার। ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত চলাকালেও অনেক সমর্থক প্রতিবাদ জানান।

 

তবে নরওয়ের অবস্থান শুধু মাঠের প্রতীকী প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন মনে করছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে কার্যকর পরিবর্তন আনতে হলে ফিফা ও উয়েফার আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই তারা বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।

 

নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান মুখ। সাবেক জাতীয় দলের এই ফুটবলার ও আইনজীবী বর্তমানে উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি একাধিকবার বলেছেন, ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, একই ধরনের নীতিগত মানদণ্ড ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

 

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি প্রথম তোলে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গাজা পরিস্থিতি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, আরব খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্য এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে পরিচালিত ফুটবল ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণ। পরে এশিয়া ও আরব অঞ্চলের কয়েকটি ফুটবল সংস্থাও সেই দাবির প্রতি সমর্থন জানায়। নরওয়ের সমর্থনের ফলে বিষয়টি ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গনেও নতুন করে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নরওয়ের দীর্ঘদিনের ভূমিকার প্রতিফলন ফুটবলেও দেখা যাচ্ছে। ১৯৯০-এর দশকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নরওয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এখন দেশটি আন্তর্জাতিক ফুটবলেও মানবাধিকার ও সমান নীতির প্রশ্নে একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরছে।

 

নরওয়ের জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মত দিয়েছেন। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড বলেছেন, গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচের প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়। অন্যদিকে তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড অতীতে গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন।

 

তবে নরওয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের পথ বেছে নেয়নি। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের মতে, কোনো একটি দেশের একক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে ফিফা ও উয়েফার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই আন্তর্জাতিক ফুটবলে কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে।

 

এদিকে ফিফা এখনো ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। বিষয়টি ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে নরওয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে একই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সমান নীতি প্রয়োগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

 

ফলে ইসরায়েলকে ঘিরে ফুটবল অঙ্গনের বিতর্ক এখন আর শুধু মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রশাসন, মানবাধিকার এবং কূটনৈতিক আলোচনারও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ