{{ news.section.title }}
আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড, ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে কোন দলকে চায় স্পেন?
১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ডালাসে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্নের আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে গেছে লা রোহা। ম্যাচ শেষে স্পেনজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়লেও কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ছিলেন স্বভাবসুলভ শান্ত। তবে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে কণ্ঠে ধরা পড়ে আবেগের ছাপ।
সেমিফাইনাল জয়ের পর ফাইনালের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে চাইবেন। এর কারণ ফুটবল নয়, বরং আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক।
স্প্যানিশ কোচ বলেন, “স্কালোনির সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে ভালো লাগবে। তবে ইংল্যান্ডও দারুণ শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। আমার কাছে দুই সেমিফাইনালই ছিল আগাম ফাইনালের মতো।”
স্কালোনির সঙ্গে দে লা ফুয়েন্তের সম্পর্কের শুরু বহু বছর আগে। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের কোচিং কোর্সে যখন স্কালোনি কোচিং লাইসেন্স নিচ্ছিলেন, তখন প্রশিক্ষকদের একজন ছিলেন দে লা ফুয়েন্তে। সেই পরিচয় পরে বন্ধুত্বে রূপ নেয়, যা আজও অটুট রয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কোনো দলকে এগিয়ে রাখতে চান না স্পেন কোচ। তিনি বলেন, “ইংল্যান্ডের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আমি তাদের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী বলেছিলাম। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড-দুই দলই অসাধারণ। যে দলই ফাইনালে উঠুক, আমরা তাদের খোলা মনেই স্বাগত জানাব।”
দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালই ছিল ইতিহাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পর্ব। কারণ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলই প্রথমবারের মতো একই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। তার মতে, এই চার দলের যেকোনো একটি শিরোপা জেতার যোগ্যতা রাখে এবং তাই ফাইনালও হবে অত্যন্ত কঠিন।
ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের মূল্যায়ন করতে গিয়ে স্প্যানিশ কোচ নিজের দলকে বিশ্বের সেরা বলতেও দ্বিধা করেননি। তিনি বলেন, “আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। কিন্তু ওদেরও মনে রাখতে হবে, তারা বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষেই খেলবে। আমার খেলোয়াড়রা অসাধারণ ছিল। তাদের নিবেদন, আত্মত্যাগ, শৃঙ্খলা ও প্রতিভা আমাকে প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে।”
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম, প্রতিভা ও দলীয় ঐক্যের ফল হিসেবেই স্পেন আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছে। তার ভাষায়, “এটি কাকতালীয় নয়। এটি প্রতিভা, পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং প্রতিদিন উন্নতি করার মানসিকতার ফল।”
দে লা ফুয়েন্তে বিশেষভাবে প্রশংসা করেন স্প্যানিশ ফুটবলের কাঠামোরও। তার মতে, দেশের ফুটবল উন্নয়ন ব্যবস্থা, কোচিং দর্শন এবং ক্লাবগুলোর কাজের কারণেই আজ স্পেন ধারাবাহিকভাবে বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরি করছে।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় বিশ্বাস করি, স্প্যানিশ ফুটবলাররাই বিশ্বের সেরা। কারণ তারা আক্রমণ ও রক্ষণ-দুই দিকেই সমান দক্ষ। এটি শুধু জাতীয় দলের নয়, আমাদের কোচ, ক্লাব এবং পুরো ফুটবল কাঠামোর অর্জন। আমাদের এই সম্পদের মূল্য বুঝতে হবে।”
এদিকে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর স্পেন এখন অপেক্ষা করছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের ফলাফলের। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও দে লা ফুয়েন্তের প্রশংসা করেছেন এবং স্পেনকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।