গাইবান্ধায় রাম মূর্তি নির্মাণে আলোচিত হরিদাস সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল সিআইডি

গাইবান্ধায় রাম মূর্তি নির্মাণে আলোচিত হরিদাস সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল সিআইডি
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে ঘিরে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে এনেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির দাবি, তার পরিচয়, অতীত কর্মকাণ্ড, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সিআইডি জানিয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে সেখানে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেছিলেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। এছাড়া ২০২২ সালে প্রতারণা ও জালিয়াতি-সংক্রান্ত একটি মামলায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে।

 

সিআইডির তথ্যমতে, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবার এলাকায় ফিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তোলেন। এরপর ২০২৫ সালে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ, ৮১ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দেন এবং প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেন। এই ঘোষণার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে যেমন আলোচনার জন্ম দেয়, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জাতীয় পর্যায়েও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

 

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হরিদাসের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে ব্যবহার হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো ধরনের অর্থপাচারের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

 

সিআইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাপ্ত আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যাংক নথি, হিসাব বিবরণী এবং ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে নতুন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অর্থের উৎস, বিভিন্ন লেনদেন এবং আলোচিত রাম মূর্তি নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বলছে, তদন্তে উঠে আসা তথ্যগুলো এখনো অনুসন্ধানাধীন। আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত হরিদাসকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না। তাই সিআইডির তদন্তে পাওয়া তথ্যগুলো অভিযোগ ও তদন্তের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

 

এদিকে আলোচিত রাম মূর্তি নির্মাণ প্রকল্পের অর্থায়ন, অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।


সম্পর্কিত নিউজ