{{ news.section.title }}
তিন দিন ভারী বৃষ্টির শঙ্কা নেই, শুক্রবারের পর আবার বাড়তে পারে বর্ষণ
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর আপাতত স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী তিন দিন দেশের কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা নেই। তবে বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই)-এর পর আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির।
তিনি বলেন, আজ সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসবে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা স্থানভেদে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর কিছুটা গরম অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা কিছুটা কমে এসেছে। এ কারণে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা নেই। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির আরও জানান, আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় দেশের সব নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দরের জন্য জারি করা সতর্কবার্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে পাহাড়ধসের মতো কোনো ঝুঁকির সতর্কতাও নেই।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চলতি মাসের শেষদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটি সৃষ্টি হলে দেশের আবহাওয়ায় আবারও পরিবর্তন আসতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে।
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে গত কয়েক দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কুমিল্লায়। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
গত সপ্তাহজুড়ে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে ঢাকাসহ অনেক শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং চট্টগ্রাম, সিলেট, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক দিনের জন্য ভারী বৃষ্টির ঝুঁকি কমলেও বর্ষাকাল এখনো শেষ হয়নি। তাই বিশেষ করে নদী তীরবর্তী ও পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।