ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে যেতে পারবেন ৬২ দেশের নাগরিকরা

ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে যেতে পারবেন ৬২ দেশের নাগরিকরা
ছবির ক্যাপশান, ফাইল ছবি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও শেনজেন অঞ্চলের বাইরে থাকা ৬২টি দেশের নাগরিকদের জন্য ২০২৬ সালেও স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা বহাল রেখেছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ ভিসা নীতিমালা অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকরা পর্যটন, ব্যবসায়িক সফর, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি উদ্দেশ্যে ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত জার্মানিতে ভিসা ছাড়াই অবস্থান করতে পারবেন।

তবে বাংলাদেশ এই ভিসামুক্ত দেশের তালিকায় নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আগের মতোই জার্মানিতে ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত শেনজেন ভিসা বা প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় (ডি) ভিসা নিতে হবে। ঢাকায় জার্মান দূতাবাসও জানিয়েছে, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বাধ্যতামূলক রয়েছে।

 

জার্মান পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাওয়া নাগরিকরা পর্যটন, ব্যবসায়িক বৈঠক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা পারিবারিক সফরের মতো স্বল্পমেয়াদি কাজে দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এই সুবিধা কোনোভাবেই চাকরি বা আয়ের উদ্দেশ্যে কাজ করার অনুমতি দেয় না। কেউ জার্মানিতে কর্মসংস্থান বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাস করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ভিসা ও আবাসিক অনুমতির জন্য পৃথকভাবে আবেদন করতে হবে।

 

এছাড়া ভিসামুক্ত তালিকায় থাকা কয়েকটি দেশের নাগরিক জার্মানিতে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দেশটির অভিবাসন আইন অনুযায়ী রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে জার্মানির প্রচলিত অভিবাসন আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে। এই সুবিধা সব দেশের নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়; নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের জন্য বিশেষ বিধান রয়েছে।

 

ভিসামুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার-যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, সার্বিয়া, ইউক্রেন, ভ্যাটিকান সিটিসহ মোট ৬২টি দেশ ও অঞ্চল।

 

জার্মান সরকারের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাওয়া দেশগুলো হলো-আলবেনিয়া, অ্যান্ডোরা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহামাস, বার্বাডোস, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, ব্রুনাই, কানাডা, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডোমিনিকা, এল সালভাদর, জর্জিয়া, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, হংকং (এসএআর), ইসরায়েল, জাপান, কিরিবাতি, কসোভো, ম্যাকাও (এসএআর), মালয়েশিয়া, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মরিশাস, মেক্সিকো, মাইক্রোনেশিয়া, মলদোভা, মোনাকো, মন্টিনিগ্রো, নিউজিল্যান্ড, উত্তর ম্যাসিডোনিয়া, নিকারাগুয়া, পালাউ, পানামা, প্যারাগুয়ে, পেরু, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সামোয়া, সান মারিনো, সার্বিয়া, সেশেলস, সিঙ্গাপুর, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান (নির্দিষ্ট শর্তে), তিমোর-লেস্তে, টোঙ্গা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, টুভালু, ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, উরুগুয়ে, ভানুয়াতু, ভ্যাটিকান সিটি এবং ভেনেজুয়েলা।

 

জার্মান কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ভিসামুক্ত প্রবেশের অর্থ হলো স্বল্পমেয়াদি সফরের অনুমতি, স্থায়ীভাবে বসবাস বা কাজ করার অধিকার নয়। ৯০ দিনের বেশি অবস্থান অথবা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জাতীয় ভিসা ও আবাসিক অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

 

তথ্যসূত্র: German Federal Foreign Office


সম্পর্কিত নিউজ