ইরানের বিভিন্ন এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে প্রস্তুত হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র: ট্রাম্প

ইরানের বিভিন্ন এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে প্রস্তুত হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র: ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ইরান যদি তাকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন সামরিক জবাব দেবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যদি ইরান বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হবে তাৎক্ষণিক এবং অত্যন্ত কঠোর। তিনি লেখেন, ‘১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র লকড অ্যান্ড লোড অবস্থায় ইরানের দিকে তাক করা আছে। এগুলো উৎক্ষেপণের পরপরই আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানবে।’ ট্রাম্পের দাবি, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতোমধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে।

 

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, প্রয়োজনে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন’ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, সম্ভাব্য এই সামরিক অভিযান প্রয়োজন হলে এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। যদিও হোয়াইট হাউস কিংবা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) ট্রাম্পের এই বক্তব্য সম্পর্কে আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

 

এর আগে নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি বহুদিন ধরেই ইরানের লক্ষ্যবস্তু এবং যদি তাঁর কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন সামরিক হামলা চালাবে, যা ইরান আগে কখনো দেখেনি। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি অনেকদিন ধরেই তাদের তালিকায় রয়েছি।’

 

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পেছনে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। ২০২০ সালে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই তেহরান একাধিকবার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্পকে ঘিরে সম্ভাব্য ইরানি হুমকির বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছে এবং তাঁর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

 

মার্কিন বিচার বিভাগও অতীতে অভিযোগ করেছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার চেষ্টা করেছিল। তবে ইরান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে এবং বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

 

সম্প্রতি ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান আবারও আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেই আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি একই সঙ্গে দাবি করেছেন, আগের যুদ্ধবিরতির সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সমঝোতা হবে নতুন বাস্তবতার ভিত্তিতে।

 

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য মূলত একটি প্রতিরোধমূলক (deterrence) বার্তা। এর মাধ্যমে তিনি ইরানকে সতর্ক করতে চেয়েছেন যে, মার্কিন নেতৃত্ব বা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো হামলার চেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না। একই সঙ্গে এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

 

অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা অতীতেও বলে এসেছেন, দেশটি কোনো ধরনের সামরিক চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ