{{ news.section.title }}
টানা বৃষ্টি কতদিন স্থায়ী হবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে চলা টানা বৃষ্টি আরও অন্তত দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে ধীরে ধীরে বৃষ্টির তীব্রতা কমতে শুরু করবে এবং মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) থেকে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। যদিও বৃষ্টি কমার আভাস মিলেছে, তবুও আগামী ৪৮ ঘণ্টা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত কয়েক দিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ওই দুই অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, রোববার ও সোমবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তবে মঙ্গলবার থেকে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা কিছুটা কমে আসায় বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই খোলা মাঠ, নদী কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কৃষক, জেলে এবং নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন শহর ও উপজেলা এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কেও পানি জমে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের অন্তত সাত জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে রংপুর অঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের প্রভাবও কিছু এলাকায় দেখা দিতে পারে। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় অপ্রয়োজনে চলাচল না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বৃষ্টিপাত আমন ধানের জন্য অনেক এলাকায় উপকারী হলেও অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে রোপণ করা জমির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষেতেও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাইরে বের হলে ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ। একই সঙ্গে বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া, বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া বন্যাকবলিত বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির প্রকোপ কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।