{{ news.section.title }}
প্রথমবারের মতো বিআরটিসির বহরে যুক্ত হচ্ছে ১০০ ইলেকট্রিক বাস
দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস। এসব বাস কেনার পাশাপাশি চার্জিং স্টেশন স্থাপন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই ঋণ সহজ শর্তে দেওয়া হবে। মাত্র ১ শতাংশ সুদে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরের মধ্যে ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পুরো ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অর্থ বিভাগের সঙ্গে ঋণচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই অর্থ ছাড় এবং বাস কেনার কার্যক্রম শুরু হবে।
সরকার বলছে, একটি সমন্বিত, দক্ষ, আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইলেকট্রিক বাস চালু হলে কার্বন নিঃসরণ কমবে, জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে এবং নগর এলাকায় বায়ুদূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র জানায়, বিআরটিসির বহরে প্রাথমিকভাবে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চার্জিং স্টেশন, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায়। পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সেই প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দেন।
এর আগে পরিচালন বাজেট থেকে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে বিআরটিসি রাষ্ট্রায়ত্ত হলেও এটি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সরাসরি অনুদান দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানায় অর্থ বিভাগ। পরিবর্তে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ অথবা পরিচালন ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনুদানের পরিবর্তে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনাতেও ইলেকট্রিক বাস চালুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে ঋণভিত্তিক অর্থায়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ লগ্নি ও পুনঃলগ্নির বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করে বিআরটিসিকে এই ঋণ দেওয়া হবে। বাংলাদেশে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এবং নতুন প্রযুক্তি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে সুদের হার মাত্র ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঋণের শর্ত অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। এরপর ত্রৈমাসিক কিস্তির মাধ্যমে ধাপে ধাপে ২০ বছরের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে অর্থ ছাড়ের আগে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বাধ্যতামূলক ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে এবং সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও সরকারি ক্রয় আইন অনুসরণ করে বাস কেনা ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
অর্থ বিভাগের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে পরিচালন ঋণ খাতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেই বরাদ্দ থেকেই বিআরটিসির ইলেকট্রিক বাস প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রিক বাস চালু হলে শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয়ও কমবে। ডিজেলচালিত বাসের তুলনায় ইলেকট্রিক বাসে জ্বালানি ব্যয় কম, শব্দদূষণও অনেক কম হয়। পাশাপাশি নগর পরিবহনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং গণপরিবহনের মান উন্নত হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু বাস কিনলেই হবে না; নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে বিআরটিসির বহরে আরও বেশি ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করা সম্ভব হবে এবং দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় একটি নতুন যুগের সূচনা হবে।