{{ news.section.title }}
আমরা ভেনেজুয়েলা নই: আরাগচি
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে কৌশলগত ভুল করেছে এবং তেহরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, সামরিক চাপ বা হুমকি দিয়ে ইরানকে নত করা সম্ভব নয় এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হলে সেটি হবে ইরানের স্বার্থ ও শক্তির অবস্থান বিবেচনা করেই।
তুরস্কের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, "ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ভয় পায়নি। আমরা ভেনেজুয়েলা নই।" তাঁর ভাষায়, ওয়াশিংটন ধারণা করেছিল সামরিক চাপ ও হামলার মাধ্যমে ইরানকে দ্রুত দুর্বল করা যাবে, কিন্তু বাস্তবে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলও বিশ্বাস করেছিল অল্প সময়ের বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে। তবে ইরানের প্রতিরোধ এবং পাল্টা সক্ষমতার কারণে সেই হিসাব কার্যকর হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিরাপত্তা দুর্বলতার কথা স্বীকার
সাক্ষাৎকারে আরাগচি স্বীকার করেন, ইরানের ভেতর থেকে তথ্য ফাঁস হওয়ার কারণেই ইসরায়েল কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর ভাষায়, হামলার পেছনে একটি নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা কাজ করেছে এবং সেটি এখনো পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। এ কারণেই ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানতেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রতিদিন সকালে তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন। আরাগচির অভিযোগ, এই তথ্যের ভিত্তিতেই সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের পরিকল্পনার দাবি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ নেতার ওপর সফল হামলা হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা আগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ইরান বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য আগাম সামরিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, সেই পরিকল্পনা এখনো কার্যকর রয়েছে কি না।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও তরল জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ জলপথে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে যা বললেন আরাগচি
আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, সেটি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অনুমোদনের ভিত্তিতেই গৃহীত হয়েছিল। তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় অংশ নিয়েছিল কূটনৈতিক পথ কার্যকর কি না, তা যাচাই করার উদ্দেশ্যে। যুদ্ধবিরতির পর আবার আলোচনা শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়েও দীর্ঘ সময় ধরে অভ্যন্তরীণ পরামর্শ হয়েছে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে আলোচনা হতে পারে, তবে সেটি তখনই হবে যখন ইরান মনে করবে সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান থেকে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে অবস্থান
এর আগে আরাগচি একাধিকবার বলেছেন, হুমকি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু হবে না। তাঁর মতে, চলমান সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ীও হুমকির পরিবেশে নতুন আলোচনা হওয়ার কথা নয়।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
আরাগচির এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে টানা বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্র স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আরাগচির বক্তব্যে একদিকে যেমন ইরানের সামরিক অবস্থানের প্রতি আস্থার বার্তা রয়েছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে বর্তমান সংঘাতের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে অর্থবহ আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
তথ্যসূত্র: তুরস্কের গণমাধ্যম