৫ দিন পর চট্টগ্রামে পৌঁছাল আটকে থাকা প্রবাল এক্সপ্রেস

৫ দিন পর চট্টগ্রামে পৌঁছাল আটকে থাকা প্রবাল এক্সপ্রেস
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও রেললাইনে পানি ওঠার কারণে পাঁচ দিন ধরে চট্টগ্রামের জানালিহাট স্টেশনে আটকে থাকা কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন অবশেষে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রেনটি জানালিহাট স্টেশন ছেড়ে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের উদ্দেশে রওনা হয়।

জানালিহাট স্টেশনের স্টেশনমাস্টার নেজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত মঙ্গলবার ষোলশহর ও জানালিহাট স্টেশনের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে রেললাইনের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা প্রবাল এক্সপ্রেস জানালিহাট স্টেশনে এসে আটকে পড়ে। পানি নেমে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পাঁচ দিন পর ট্রেনটি নিরাপদে চট্টগ্রামের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

 

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ৪ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত রেলপথের একাধিক অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও রেললাইনের ওপর দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত পানি জমে, ফলে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

 

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার পানি দ্রুত নেমে গেলেও শমসেরপাড়া এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় রেললাইন ব্যবহার অনিরাপদ হয়ে পড়ে। এজন্য রেললাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

 

রেলপথে পানি ওঠার কারণে গত মঙ্গলবার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল স্থগিত ছিল। এই রুটে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে, যার মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া এবং ঢাকা থেকে দুই জোড়া ট্রেন রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে আট থেকে নয় হাজার যাত্রী এই রেলপথ ব্যবহার করেন। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকসহ হাজারো যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

 

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। তবে কোথাও আবার পানি বাড়লে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে আরও এক থেকে দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ