{{ news.section.title }}
পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে রাঙ্গামাটি, পানিবন্দি হাজারো মানুষ
রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাইংখ্যং নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে ফারুয়া বাজার, বসতঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সড়ক। তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত মানুষের কাছে সরকারি ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও পাহাড়ি ঢলের পানি এখনও রাইংখ্যং নদী দিয়ে দ্রুত নামতে না পারায় পানি কমার পরিবর্তে অনেক এলাকায় আরও বেড়েছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
সবচেয়ে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে ফারুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায়। পুরো বাজার পানির নিচে চলে যাওয়ায় দেড় শতাধিক দোকানে কোমরসমান পানি জমেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটও দেখা দিতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ায় অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনের তুলনায় জায়গা কম থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। অনেকেই গাদাগাদি করে অবস্থান করছেন।
এদিকে রাইংখ্যং নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে উপজেলা প্রশাসন এখনো ফারুয়ায় ত্রাণ পৌঁছাতে পারেনি। নৌযান চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীতে এতটাই তীব্র স্রোত তৈরি হয়েছে যে শনিবার সকাল, দুপুর ও বিকেলে তিন দফা নৌকা নিয়ে ফারুয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েও ফিরে আসতে হয়েছে। কোনো নৌকাচালকই ঝুঁকি নিয়ে ওই পথে যেতে রাজি হচ্ছেন না।
তিনি আরও জানান, আগে সীমান্ত সড়ক ব্যবহার করে ফারুয়ায় পৌঁছানো সম্ভব হলেও প্রবল বর্ষণে ওই সড়কের ভিউ পয়েন্ট এলাকায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। ফলে সড়কপথও এখন সম্পূর্ণ অচল। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসায় রোববার স্রোতের তীব্রতা কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন তিনি। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে দ্রুত ত্রাণ নিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রুহুল আমিন বলেন, প্রশাসন গতকাল থেকেই ফারুয়ায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু নদীর স্রোতের কারণে সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয় বাজার থেকে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে দুর্গত মানুষের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিলাইছড়িতে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বর্তমানে চারটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এসব কেন্দ্রে অন্তত ১৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ফারুয়া ইউনিয়নে মাত্র একটি আশ্রয়কেন্দ্র থাকায় সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ অবস্থান করছেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ফারুয়া এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় সেখানকার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রিত মানুষের সংখ্যা এবং জরুরি প্রয়োজন সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। যোগাযোগ স্বাভাবিক হলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিশেষ উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, পানি দ্রুত না কমলে খাদ্যসংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।