বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দামি সেমিফাইনাল! ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দামি সেমিফাইনাল! ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী এআই জেনারেটেড ছবি

ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই বিশ্ব ফুটবলের সেরা দলগুলোর মহারণ। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালটি ইতিহাসে জায়গা করে নিচ্ছে আরও একটি বিশেষ কারণে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস (AS) এবং ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট ট্রান্সফারমার্কট (Transfermarkt)-এর বাজারমূল্যের তথ্য অনুযায়ী, দুই দলের খেলোয়াড়দের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ফলে এটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান সেমিফাইনাল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রাত ১টায় ডালাসে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি। একদিকে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, অন্যদিকে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই দলের আর্থিক শক্তির লড়াইটিও নজর কেড়েছে ফুটবলবিশ্বের।

 

বাজারমূল্যের হিসাবে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে, উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে, উইলিয়াম সালিবা ও রায়ান শেরকিদের নিয়ে গড়া ফরাসি স্কোয়াডের মোট বাজারমূল্য প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, নিকো উইলিয়ামস, রদ্রি ও পাউ কুবার্সিদের নিয়ে স্পেনের স্কোয়াডের মূল্য প্রায় ১.৪৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দলের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার।

 

ব্যক্তিগত বাজারমূল্যের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তার বাজারমূল্য পৌঁছেছে প্রায় ২৩৪ মিলিয়ন ডলারে। দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে, যার মূল্য প্রায় ২১০ মিলিয়ন ডলার। ফ্রান্সের মাইকেল অলিসে ও স্পেনের পেদ্রি-দুজনেরই বাজারমূল্য প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার।

 

এই চার তারকার বাইরেও দুই দলে রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন শত মিলিয়ন ডলারের ফুটবলার। দুই দলের মোট সাতজন খেলোয়াড়ের বাজারমূল্য ১১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি, আর অন্তত ৫৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের খেলোয়াড় রয়েছেন মোট ২২ জন। এর মধ্যে ১৫ জনই ফ্রান্সের, আর ৭ জন স্পেনের। অর্থাৎ উচ্চ বাজারমূল্যের খেলোয়াড়ের সংখ্যায় স্পেনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি এগিয়ে ফরাসিরা।

 

পজিশনভিত্তিক বিশ্লেষণেও রয়েছে ভিন্ন চিত্র। গোলরক্ষক বিভাগে এগিয়ে স্পেন। উনাই সিমোনকে কেন্দ্র করে স্প্যানিশ গোলকিপারদের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ১১৪ মিলিয়ন ডলার, যেখানে ফ্রান্সের গোলরক্ষকদের মোট মূল্য প্রায় ৬৭ মিলিয়ন ডলার।

 

রক্ষণভাগে অবশ্য একচ্ছত্র আধিপত্য ফ্রান্সের। উইলিয়াম সালিবা, ইব্রাহিমা কোনাতে, জুল কুন্দে ও লুকাস হার্নান্দেজদের কারণে ফরাসি ডিফেন্ডারদের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৪৭৩ মিলিয়ন ডলার। স্পেনের রক্ষণভাগের বাজারমূল্য সেখানে প্রায় ৩৩৭ মিলিয়ন ডলার।

 

মিডফিল্ডে আবার পাল্লা ভারী স্পেনের। রদ্রি, পেদ্রি, গাভি, ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনোদের নিয়ে স্প্যানিশ মাঝমাঠের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৪৯১ মিলিয়ন ডলার, যেখানে ফ্রান্সের মিডফিল্ডের মূল্য প্রায় ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার।

 

সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে আক্রমণভাগ। লামিন ইয়ামালের ব্যক্তিগত বাজারমূল্য সবচেয়ে বেশি হলেও সামগ্রিকভাবে ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড লাইন অনেক বেশি দামি। এমবাপ্পে, দেম্বেলে, অলিসে, দেজিরে দুয়ে, ব্র্যাডলি বারকোলা ও মার্কাস থুরামদের নিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৮৭৭ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে স্পেনের আক্রমণভাগের মূল্য প্রায় ৪৮৮ মিলিয়ন ডলার। মূলত এই বিশাল ব্যবধানই সামগ্রিক স্কোয়াড মূল্যে ফ্রান্সকে স্পেনের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

 

তবে বাজারমূল্যের হিসাব কেবল কাগজে-কলমে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে অতীতের পরিসংখ্যান কিংবা আর্থিক মূল্য নয়, শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয় মাঠের পারফরম্যান্স। তবু একটি বিষয় নিশ্চিত-ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনাল শুধু ফুটবলীয় মানেই নয়, খেলোয়াড়দের আর্থিক মূল্যমানের দিক থেকেও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মহারণ হতে যাচ্ছে।

 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ