{{ news.section.title }}
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ভারতের টি–২০ বিশ্বকাপ!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। সীমিত সংখ্যক সংক্রমণ ধরা পড়লেও ভাইরাসটির উচ্চ মৃত্যুহার ও কার্যকর টিকা না থাকায় আসন্ন টি–২০ বিশ্বকাপ ঘিরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরকার বিভিন্ন রাজ্যে সতর্কতা জারী করেছে। এমনকি ভারতের বাহিরে ভারতের পাসপোর্ট ধারীদের ও চেকপোস্টে আঁটকে দিচ্ছে বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ। সেই সাথে ভারতীয়দের নিপাহ ভাইরাস সনাক্ত করার জোর দাবী জানান। পশ্চিমবঙ্গে এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসে দুইজন আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভারতের প্রতিবেশী রাজ্য ওডিশা এবং কেরালায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কেরালায় নিপাহ ভাইরাসকে স্থানীয়ভাবে বিদ্যমান রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নিপাহ একটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ানো ভাইরাস। ফলে বাদুড় এ ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে পরিচিত। দূষিত খাবার, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ বা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নিপাহ ভাইরাসে গুরুতর শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত রোগ এনসেফালাইটিস হতে পারে। বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। তাছাড়া এই ভাইরাসের টিকা সহজলভ্য নয়। সরকার এখনই সতর্ক না হলে সাড়া দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে দেশে এত বড় খেলার আয়োজন করা ঠিক হবে না।
করোনাভাইরাসের মতো নিপাহ সহজে বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। সাধারণত সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমেই সংক্রমণ ঘটে। তবু রোগটির মারাত্মক রূপ এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা কার্যকর টিকার অভাবের কারণে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। এই সময়ে এই ভাইরাসটিতে আক্রাত্নের সংখ্যা বাড়লে মোডি সরকার বির্তকের মুখে পড়বে। তাই ভারতের টি-টোয়েনটি বিশ্বকাপ বন্ধ করে দিতে পারে এমন ধারনা ও করছে সাধারণ জনগণ।
পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে থাইল্যান্ড, নেপাল ও তাইওয়ানসহ কয়েকটি দেশ উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এসব পরীক্ষা মূলত কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনুসৃত কাঠামো অনুসরণ করে করা হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও প্রয়োজনে আলাদা রাখা যায় ।ভারতজুড়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের আগে এমন সংক্রমণের খবর উদ্বেগের কারণ হতে পারে।যদিও নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ না করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন
।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাস মোকাবিলায় দ্রুত শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং সহায়ক চিকিৎসাই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। সে কারণে আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বড় আকারের জনসমাগম ঘিরে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।