চট্টগ্রামের হৃদয় ভেঙে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

চট্টগ্রামের হৃদয় ভেঙে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

পারল না, এবারও পারল না। চ্যাম্পিয়ন হতে পারল না চট্টগ্রাম রয়্যালস। এর আগে চিটাগাং কিংস নামে দুইবার বিপিএলের ফাইনালে খেলে হতাশাই সঙ্গী হয়েছে চট্টগ্রামের। এমনকি সর্বশেষ ফরচুন বরিশালের কাছে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়া চট্টগ্রাম আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ট্রফি উদযাপন দেখল।

 একতরফা ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারাল রাজশাহী।রাজশাহী বাসীর মনে আনন্দের বন্যা বয়ছে। চট্টগ্রাম এ নিয়ে তিনবার ফাইনালে উঠে শিরোপার লড়াইয়ে তিনবারই হারই মানলো। বিশেষ করে বিপিএলের ফাইনালে রান তাড়ায় একটুও লড়াই জমাতে পারল না চট্টগ্রাম। বিসিবির পরিচালনায় থাকা দলটি নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে পড়ল মুখ থুবড়ে মাঠে। ব্যাটিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের রেকর্ডময় সেঞ্চুরির পর বল হাতে বিনুরা ফার্নান্দো ও হাসান মুরাদ জ্বলে ওঠায় অনায়াসে জিতল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। তারা মাতোয়ারা হলো বিপিএলের শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার বিপিএলের শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে চট্টগ্রামকে রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যাবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

মিরপুরের ফাইনালে ৬৩ রানে হেরেছে অধিনায়ক শেখ মেহেদীর দল। আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বলে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর ক্যাচ এসএম মেহরব ধরা মাত্রই বুনো উল্লাসে মাতেন রাজশাহীর খেলোয়াড়রা। পরে পুরো স্টেডিয়ামের আতশবাজি আর দর্শকদের কড়তালি চ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানায়।সব কিছুর শেষে রাজশাহীর ঘরে ট্রফি উটলো।

 

এবার  দীর্ঘ ৬ বছর পর আবারও বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়ল রাশাহী। ২০১৯ সালে খুলনা টাইগার্সকে ২১ রানে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেবার রাজশাহী রয়্যালস নামে খেলা দলটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলের পর এবার রাজশাহী শিরোপা জিতল নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে।

১৭৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই পথ হারায় চট্টগ্রাম। বিনুরা ফার্নান্দোর তোপে ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা। শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি পেসারের জোড়া উইকেটের বিপরীতে একটি নেন হাসান মুরাদ। বাঁহাতি স্পিনার মুরাদ পরে আরও দুটি নিয়ে চট্টগ্রামের ব্যাটিং অর্ডারই গুঁড়িয়ে দেন।

পরে নিয়মিত বিরতিতে উইকেটে হারিয়ে ১১১ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম। শুরুতে জোড়া আঘাত হানা বিনুরা পরে আরও দুটি নেন। তার সর্বোচ্চ ৪ উইকেটের বিপরীতে ৩ উইকেট নেন মুরাদ।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী। ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলের অধিনায়কত্বে বিপিএলে প্রথম শিরোপার স্বাদ পায় রাজশাহী রয়েলেস। এবার বিপিএলের ১২তম আসরে নাম পরিবর্তন করে রাজশাহী ওয়ারির্য়স নামে খেলা দলটি হারিয়ে ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়েলসকে ৬৩ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে।

আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ১২তম আসরের ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে তানজিদ হাসান তামিমের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান করে রাজশাহী।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরু থেকে উইকেটে হারাতে থাকা চট্টগ্রাম শেষ পর্যন্ত ১৭.২ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয়। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন চট্টগ্রামের হয়ে খেলা পাকিস্তানি ওপেনার মিরাজ বেগ।

এছাড়া চট্টগ্রামের আরেক পাকিস্তানি আসিফ আলি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করেন। ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চট্টগ্রামের ৭জন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ফিগার রান করতে পারেননি। চট্টগ্রাম এনিয়ে তিনবার ফাইনালে উঠে শিরোপার লড়াইয়ে হেরে যায়।

শুক্রবার বিপিএল ফাইনালে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে রাজশাহী। ইনিংস ওপেন করতে নেমে দলকে উড়ন্ত সূচনা উপহার দিয়েছেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম। ওপেনিং জুটিতে ১০.২ বলে ৮৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন।

৩০ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় ৩০ রান করে সাজঘরে ফিরেন পাকিস্তানি ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান। দলকে শুরু থেকেই এগিয়ে নেন বাংলাদেশ দলের তারকা ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ২৯ বলে ৬টি ছক্কার সাহায্যে গড়েছেন ফিফটি। পরের ৩১ বলে পঞ্চশপূর্ণ করে বিপিএল ফাইনালে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তানজিদ। তবে বিপিএলে এটা তার তৃতীয় সেঞ্চুরি।

৬১ বলে সেঞ্চুরি করার পর নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি তানজিদ। ১৮.৫ ওভারে দলীয় ১৬৩ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। এরপর শেষ ৭ বলে ১১ রান সংগ্রহ করতে রাজশাহী হারায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট।

রাজশাহীর হয়ে ১০০ রান করেন তানজিদ। ৩০ রান করেন শাহিবজাদা ফারহান। ১৫ বলে ২৪ রান করেন কেন উইলিয়ামস। ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে ৭ বলে ১১ রান করে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। চট্টগ্রামের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম।

শেষের অনেক আগেই কার্যত শেষ হয়ে যায় লড়াই। ধুঁকতে ধুঁকতে চট্টগ্রাম গুটিয়ে যায় ১৩ বল বাকি থাকতে। রাজশাহীর ক্রিকেটার ও স্টাফরা মেতে ওঠেন বাঁধনহারা উল্লাসে। এবার রাজশাহী আবারো প্রমান করল নিজেদের খেলার মাঠে। 


সম্পর্কিত নিউজ