ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিড়াল কেনা–বেচা হালাল না হারাম?

ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিড়াল কেনা–বেচা হালাল না হারাম?
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

বর্তমান সময়ে দেশে–বিদেশে পোষা প্রাণী পালনের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। শখের বসে অনেকেই বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালন করছেন। পোষা প্রাণীদের মধ্যে কুকুরের তুলনায় বিড়াল পালনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি দেখা যায়।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ বিড়ালের প্রতি স্নেহ ও দয়ার আচরণ করতেন।তিনি বিড়ালকে অপবিত্র বলেননি। বরং তিনি বলেছেন :

“বিড়াল অপবিত্র নয়; বরং তারা তোমাদের আশপাশে ঘোরাফেরা করা (পবিত্র) প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত।”

একদিন সাহাবি আবু হুরাইরা (রাযিঃ) তাঁর জামার আস্তিনে একটি ছোট বিড়ালছানা লুকিয়ে নিয়ে আসেন। বিড়ালছানাটি বের হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ ﷺ মুচকি হাসি দিয়ে তাকে সম্বোধন করেন - 
“হে বিড়ালের পিতা।”
এই ঘটনা থেকেই তাঁর উপাধি হয় আবু হুরাইরা (বিড়ালের পিতা)। তিনি সবসময় একটি বিড়ালছানা সাথে রাখতেন, তার যত্ন নিতেন এবং খেলা করতেন ।

আমরা কতজন জানি, ইসলামে বিড়াল কেনা–বেচা করা হারাম । বিড়াল কেনা–বেচা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং একে নাজায়েজ বলা হয়েছে। তবে চাইলে উপহার হিসেবে বিড়াল দেওয়া–নেওয়া করতে পারবেন ।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:


আবু যুবাইর রাহ. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির রা. এর নিকট কুকুর ও বিড়ালের মূল্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছেন।" [সহিহ মুসলিম, হা/ [৩৯০৭]


অন্য হাদিসে এসেছে জাবির ইবনে ‘আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবি (সা.) ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুকুর ও বিড়ালের বিক্রয় মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।’ [সুনানে আবু দাউদ-৩৪৭৯]।

ইবনুল কাইয়েম (রহ.) বিড়াল কেনা-বেচা হারাম হওয়ার বিষয়ে দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, এটাই সঠিক অভিমত। কারণ এ বিষয়ে সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং এর বিপরীতেও কোনো হাদিস নেই। সুতরাং এ কথা বলাই আবশ্যক।’ (জাদুল মায়াদ ৫/৭৭৩)।

এছাড়াও সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লম্বা দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র প্রাণী যেমন বিড়াল, বানর, কুকুর ইত্যাদি বিক্রি করা নিষেধ। কারণ এ ব্যাপারে নবি (সা.) ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাবধান করে গিয়েছেন। এছাড়া এটি অর্থ ও সম্পদ নষ্টের অন্তর্ভুক্ত, যা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন। (ফতোয়া লাজনা দায়েমা, ১৩/৩৭)


সম্পর্কিত নিউজ