{{ news.section.title }}
চাশতের নামাজ কখন পড়বেন, ফজিলত ও নিয়ম
- Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ইসলামে নফল নামাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। নফল নামাজ মুমিনের জীবনে আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটায় এবং আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। নফল নামাজগুলোর মধ্যে চাশতের নামাজ অন্যতম।
শরাক ও চাশতের নামাজের সময় মূলত একই। তবে সূর্য ভালোভাবে ওঠার পর, সাধারণভাবে সকাল ১১টার দিকে চাশতের নামাজ আদায় করা উত্তম। এই নামাজ সাধারণ নফল নামাজের নিয়মে দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়। এ বিষয়ে একাধিক হাদিসে চাশতের নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।
চাশতের নামাজের রাকাত সম্পর্কে মুআজা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা রা. কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসুলুল্লাহ সা. কি চাশতের সালাত আদায় করতেন। উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ, তিনি চার রাকাত সালাত আদায় করতেন। আল্লাহ চাইলে কখনো কখনো এর চেয়েও বেশি পড়তেন। মুসলিম হাদিস ১৬৯৬ এবং ইবনে মাজাহ হাদিস ১৩৮১।
কখনো নিয়মিত আবার কখনো ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও হাদিসে এসেছে। আবু সাঈদ খুদরি রা. বলেন, নবী কারিম সা. চাশতের নামাজ এমনভাবে আদায় করতেন যে আমাদের মনে হতো তিনি আর কখনো এটি ছাড়বেন না। আবার কখনো ছেড়ে দিতেন, তখন আমাদের মনে হতো তিনি আর এ নামাজ পড়বেন না। মুসনাদে আহমাদ হাদিস ১১৩১২ এবং মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা হাদিস ৭৮৮৮।
চাশতের নামাজের বিশেষত্ব সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারিম সা. সূর্য হেলার পর থেকে যোহরের পূর্ব পর্যন্ত চার রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, এ সময় আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়। আমার একান্ত ইচ্ছা, এ সময় আমার কোনো সৎকাজ আল্লাহর দরবারে পৌঁছুক। তিরমিজি হাদিস ৪৭৮ এবং শরহুস সুন্নাহ হাদিস ৭৯০।
দীর্ঘ কিরাতে নামাজ আদায়ের কথাও হাদিসে এসেছে। আলি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি যোহরের পূর্বে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, সূর্য হেলার সময় নবী কারিম সা. এই সালাত আদায় করতেন এবং এতে দীর্ঘ কিরাআত পড়তেন। সুনানুল কুবরা নাসায়ি হাদিস ৩৩৩ এবং শামায়েলে তিরমিজি হাদিস ২৮১।
চাশতের নামাজ সম্পর্কে উপদেশ দিতে গিয়ে আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. আমাকে তিনটি বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন। ঘুমের আগে বিতর পড়া, চাশতের নামাজ দুই রাকাত আদায় করা এবং প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা। সহিহ ইবনে হিব্বান হাদিস ২৫৩৬।
চাশতের নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে আবু জার গিফারি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, মানুষের প্রতিটি জোড়ার ওপর প্রতিদিন সদকা রয়েছে। প্রতিটি সুবহানাল্লাহ সদকা, প্রতিটি আলহামদুলিল্লাহ সদকা, প্রতিটি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সদকা, প্রতিটি আল্লাহু আকবার সদকা। সৎকাজের আদেশ সদকা এবং অসৎকাজের নিষেধ সদকা। আর চাশতের সময় দুই রাকাত নামাজ আদায় করা এসবের পক্ষ থেকে যথেষ্ট। মুসলিম হাদিস ১৫৪৪।
চাশতের নামাজের ফজিলত সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবু জার রা. এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলে আমি তার কাছে কল্যাণকর উপদেশ চাই। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা. এর কাছে একইভাবে প্রশ্ন করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন, যদি কেউ চাশতের নামাজ দুই রাকাত পড়ে, তবে সে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। চার রাকাত পড়লে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ছয় রাকাত পড়লে অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আট রাকাত পড়লে সফলকামদের তালিকায় লেখা হবে। দশ রাকাত পড়লে সেদিন তার আমলনামায় কোনো গুনাহ লেখা হবে না। আর বারো রাকাত পড়লে জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। সুনানুল কুবরা বায়হাকি হাদিস ৪৯০৬ এবং মুসনাদুল বাজ্জার হাদিস ৩৮৯০।