{{ news.section.title }}
ওমরা পালনের নিয়ম ও দোয়া
- Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ওমরাহ শব্দের অর্থ জিয়ারত করা, পরিদর্শন করা ও সাক্ষাৎ করা। মূলত পবিত্র কাবাঘরের জিয়ারতকেই ওমরাহ বলা হয়। ইসলামের পরিভাষায় হজের নির্ধারিত সময় ছাড়া বছরের যেকোনো সময়ে পবিত্র কাবাঘরের তাওয়াফসহ নির্দিষ্ট কিছু ইবাদত আদায় করাকে ওমরাহ বলা হয়।
ওমরাহ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রধানত চারটি কাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফরজ ও দুটি ওয়াজিব। ফরজ হলো- ইহরাম পরিধান করা এবং পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করা। আর ওয়াজিব হলো- সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে সাতবার সাঈ করা এবং মাথার চুল মুণ্ডন বা ছোট করা।
ওমরাহর প্রথম কাজ ইহরাম পরিধান। ইহরাম পরিধানের আগে শারীরিক পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা জরুরি। হাত-পায়ের নখ কাটা, গোঁফ ও নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা এবং চুল ঠিক করা সুন্নত। ইহরাম পরিধানের আগে গোসল করা উত্তম। এরপর পুরুষরা সেলাইবিহীন পোশাক এবং নারীরা শালীন যেকোনো পোশাক পরিধান করে ইহরাম বাঁধবে। মিকাত বা মিকাতের আগে ওমরাহর নিয়ত করতে হবে এবং তালবিয়া পাঠ শুরু করতে হবে।
ইহরামের নিয়তে পড়া যায়-
اللهم إني أريد العمرة فيسرها لي و تقبلها مني
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা ফা-ইয়াসসিরহা লি ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি ওমরাহ আদায়ের ইচ্ছা করছি। আপনি তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং কবুল করুন।
এরপর বলা হয়- লাব্বাইক আল্লাহুম্মা উমরাতান। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো তালবিয়া পাঠ করতে হয়-
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারিকা লাক।
পুরুষরা উচ্চস্বরে এবং নারীরা নীরবে তালবিয়া পাঠ করবে। তাওয়াফ শুরু করার আগ পর্যন্ত তালবিয়া পড়া যাবে।
ইহরাম পরিধানের পর কিছু কাজ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। যেমন সেলাইযুক্ত পোশাক পরা, মাথা বা মুখ ঢেকে রাখা, চুল ও নখ কাটা, সুগন্ধি ব্যবহার, স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা, যৌন উদ্দীপক কথা বা কাজ, শিকার, ঝগড়া-বিবাদ, চুলে চিরুনি চালানো, সাবান ব্যবহার, কোনো প্রাণী হত্যা এবং যেকোনো ধরনের গুনাহে লিপ্ত হওয়া।
এরপর দ্বিতীয় ফরজ কাজ হিসেবে কাবাঘরের তাওয়াফ করতে হয়। মসজিদে হারামে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করে নির্ধারিত দোয়া পড়ে হাজরে আসওয়াদের দিক থেকে তাওয়াফ শুরু করতে হয়। হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ ও চুমু খাওয়া সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করলেই যথেষ্ট। কাবাঘরকে বাম দিকে রেখে সাতবার প্রদক্ষিণ করাই তাওয়াফ। তাওয়াফের সময় রুকনে ইয়ামেনি স্পর্শ করা সুন্নত। প্রতিটি চক্করে দোয়া, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াত করা যায়।
পুরুষদের জন্য তাওয়াফের সময় ইজতেবা ও প্রথম তিন চক্করে রমল করা সুন্নত। সাত চক্কর শেষ হলে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়। এরপর জমজমের পানি পান করে আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়।
এরপর তৃতীয় কাজ হিসেবে সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করতে হয়। সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে দোয়া করা হয় এবং সাফা থেকে মারওয়ার দিকে যাত্রা শুরু হয়। সবুজ চিহ্নিত স্থানে পুরুষরা দৌড়াবে, বাকিটা স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবে। সাফা থেকে মারওয়া এক চক্কর এবং মারওয়া থেকে সাফা এক চক্কর হিসেবে মোট সাত চক্কর সাঈ সম্পন্ন করতে হয়।
সাঈ শেষ হলে শেষ কাজ হিসেবে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করতে হয়। পুরুষদের জন্য মাথা মুণ্ডন করা উত্তম, তবে চুল ছোট করলেও হবে। নারীরা আঙুলের এক কর পরিমাণ চুল কাটবে। এর মাধ্যমে ওমরাহ সম্পন্ন হয়।
সুতরাং ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার মাধ্যমেই ওমরাহ আদায় হয়। আল্লাহ তাআলা সবাইকে সহিহভাবে ওমরাহ আদায়ের তাওফিক দান করুন।