{{ news.section.title }}
আপনার নিরাপত্তার জন্য যে ৩ সুরার আমলই যথেষ্ট
- Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস তিনবার করে পড়বে; এগুলোই তার সব কিছুর নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে।’ হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এই তিন সুরার অসংখ্য ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যের কথা এসেছে, যা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য যথেষ্ট। নিচে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাসের পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা তুলে ধরা হলো-
সুরা ইখলাস
সুরা ইখলাস আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের অনন্য পরিচয় বহনকারী সুরা। এটি কুরআনুল কারিমের ১১২তম সুরা। চার আয়াতবিশিষ্ট এই সংক্ষিপ্ত সুরাটি হিজরতের আগে মক্কায় অবতীর্ণ হয়। কুরআনের অন্যান্য সুরার তুলনায় সুরা ইখলাসের তেলাওয়াত ও আমলের প্রতি মানুষের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি। সুরার নামের মধ্যেই এর মর্যাদা, ফজিলত ও তাৎপর্য প্রকাশ পায়।
সুরা ইখলাসের আয়াত-
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
اللَّهُ الصَّمَدُ
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ: কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।
অর্থ: বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।
সুরা ফালাক
সুরা ফালাক কুরআনুল কারিমের ১১৩তম সুরা। পাঁচ আয়াত ও এক রুকু বিশিষ্ট এই সুরাটি সব ধরনের অনিষ্ট, শয়তানের কুমন্ত্রণা ও জাদুটোনা থেকে মুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সুরার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন।
সুরা ফালাকের আয়াত-
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
উচ্চারণ: কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক; মিন শাররি মা খালাক; ওয়া মিন শাররি গাসিকিন ইজা ওয়াকাব; ওয়া মিন শাররিন নাফ্ফাছাতি ফিল উকাদ; ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইজা হাসাদ।
অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার কাছে- তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে যখন তা গভীর হয়, গ্রন্থিতে ফুঁ দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
সুরা নাস
সুরা নাস কুরআনুল কারিমের সর্বশেষ, অর্থাৎ ১১৪তম সুরা। ছয় আয়াত ও এক রুকু বিশিষ্ট এই সুরার মাধ্যমে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব ধরনের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। প্রথম তিন আয়াতে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা এবং পরের তিন আয়াতে জিন ও মানুষরূপী শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষার দিকনির্দেশনা রয়েছে।
সুরা নাসের আয়াত-
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
مَلِكِ النَّاسِ
إِلَهِ النَّاسِ
مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
উচ্চারণ: কুল আউজু বিরাব্বিন নাস; মালিকিন নাস; ইলাহিন নাস। মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস; আল্লাজি ইউওয়াসয়িসু ফি সুদুরিন নাস; মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস।
অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় চাই মানুষের পালনকর্তার কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের ইলাহের কাছে- তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্মগোপন করে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়- জিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
তিন সুরার বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে উভয় হাত একত্র করে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করে তাতে ফুঁ দিতেন এবং শরীরের যতটুকু সম্ভব হাত বুলিয়ে নিতেন। তিনি এ আমল তিনবার করতেন। (বুখারি)
হাদিসে আরও এসেছে, শয়তানের অনিষ্ট ও জাদুটোনা থেকে বাঁচতে সকাল-সন্ধ্যায় এই তিন সুরার আমল অত্যন্ত কার্যকর। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়বে, সে সব বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকবে। (তিরমিজি)
ফজর ও মাগরিবের ফরজ নামাজের পর এই তিন সুরা তিনবার করে এবং অন্যান্য ফরজ নামাজের পর একবার করে পড়ার নির্দেশনা এসেছে। (আবু দাউদ)
হজরত উকবা ইবনে আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আজ রাতে আমার ওপর এমন আয়াত নাজিল হয়েছে, যার মতো কোনো আয়াত আগে দেখা বা শোনা যায়নি- সেগুলো হলো সুরা ফালাক ও সুরা নাস। (মুসলিম)
এক ঘটনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর জাদু করা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁকে পূর্ণ সুস্থতা দান করেন।