ঋণ মুক্তির দোয়া, কখন-কীভাবে পড়বেন?

ঋণ মুক্তির দোয়া, কখন-কীভাবে পড়বেন?
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত
  • Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ঋণ পরিশোধের বিষয়ে ইসলামে রয়েছে অত্যন্ত সুন্দর ও তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশনা। এ প্রসঙ্গে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করে।’ অন্য এক হাদিসে তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। তবে কেউ যদি প্রকৃতপক্ষে ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়ে, তাহলে তার করণীয় কী? কখন এবং কীভাবে সে আল্লাহর সাহায্য চাইবে- সে সম্পর্কেও হাদিসে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

ঋণ থেকে মুক্তির দোয়া

হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদিন এক চুক্তিবদ্ধ গোলাম তাঁর কাছে এসে বলল, সে তার চুক্তির অর্থ পরিশোধ করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে এবং সহযোগিতা প্রার্থনা করল। তখন হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দেব না, যা আমাকে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিখিয়েছেন? যদি তোমার ওপর সাবীর পর্বত পরিমাণ ঋণও থাকে, আল্লাহ তাআলা তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেবেন। এরপর তিনি দোয়াটি পড়তে বললেন—

اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।

অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার হালালের মাধ্যমে আমাকে তোমার হারাম থেকে দূরে রাখ এবং তোমার অনুগ্রহে তুমি ছাড়া অন্য কারও মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে আমাকে মুক্ত ও আত্মনির্ভরশীল করে দাও। (তিরমিজি)

ঋণমুক্তির নিয়তে সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং ঋণ পরিশোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো জরুরি। বিশুদ্ধ নিয়ত ও প্রচেষ্টার সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ঋণমুক্ত করেন ইনশাআল্লাহ।

 

ঋণ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও সব সময় ভয়, দুশ্চিন্তা ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি চাইতেন। এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে—

হজরত আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোথাও অবতরণ করতেন, তখন প্রায়ই তাঁকে এই দোয়া পড়তে শুনতাম—

اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি ওয়াল আঝযি ওয়াল কাসালি ওয়াল বুখলি ওয়াল ঝুবনি ওয়া দালায়িদ-দাইনি ওয়া গালাবাতির-রিঝালি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের প্রাধান্য থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। (বুখারি)

বিশেষ করে এই দোয়াটি ঋণ পরিশোধের নিয়ত ও প্রচেষ্টার পাশাপাশি নামাজের দুই সেজদার মাঝখানে বেশি বেশি পড়া উত্তম।

 

ঋণ পরিশোধের সময় দোয়া করা

ঋণ পরিশোধের সময়ও নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করতেন। এ বিষয়ে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু রবিআ আল-মাখযুমি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, হুনাইন যুদ্ধের সময় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাছ থেকে ত্রিশ বা চল্লিশ হাজার দিরহাম ঋণ নিয়েছিলেন। যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পাওনা পরিশোধ করেন এবং দোয়া করে বলেন—

بارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ، إِنَّمَا جَزَاءُ السَّلَفِ الْحَمْدُ وَالأَدَاءُ

উচ্চারণ: বারাকাল্লাহু লাকা ফি আহলিকা ওয়া মালিকা; ইন্নামা ঝাযাউস-সালাফিল হামদু ওয়াল-আদাউ।

অর্থ: আল্লাহ তাআলা তোমার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। নিশ্চয়ই ঋণের উত্তম প্রতিদান হলো তা যথাযথভাবে পরিশোধ করা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

 

সুতরাং একজন মুমিন মুসলমানের উচিত, ঋণ পরিশোধে বিশুদ্ধ নিয়ত রাখা, সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো এবং সকাল-সন্ধ্যা ও প্রত্যেক নামাজের দুই সেজদার মাঝে এসব দোয়া পড়া। আল্লাহ তাআলার কাছে ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির জন্য তাওফিক কামনা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঋণ পরিশোধের তাওফিক দান করুন, হাদিস অনুযায়ী আমল করার শক্তি দিন এবং সবাইকে উত্তম আমলকারীর অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।


সম্পর্কিত নিউজ