{{ news.section.title }}
হজ্জের ফরজ ও ওয়াজিব কয়টি ও কী কী ?
হজ্জের ফরজ ৩টি এবং ওয়াজিব ৭টি (মতান্তরে ৬টি)। ফরজ কাজ বাদ পড়লে হজ্জ হয় না, আর ওয়াজিব কাজ বাদ পড়লে দম বা কুরবানির মাধ্যমে হজ্জ শুদ্ধ করতে হয়।
হজ্জের প্রধান রুকন বা ফরজ মোট ৩টি এবং ওয়াজিব মোট ৬টি (মতান্তরে ৭টি)। হজ্জের ফরজ কোনো একটি বাদ পড়লে হজ্জ বাতিল হয়ে যায়, আর ওয়াজিব বাদ পড়লে দমে শোকর বা কাফফারা (পশু কোরবানি) দিতে হয়।
হজ্জের ফরজ ও ওয়াজিব কাজগুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
হজ্জের ফরজ ৩টি
১. ইহরাম বাঁধা: হজ্জের নিয়তে নির্দিষ্ট স্থানে (মিকাত) সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পরিধান করে হজ্জের জন্য প্রস্তুত হওয়া।
২. আরাফাতের ময়দানে অবস্থান: ৯ই জিলহজ দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত (কিংবা ১০ই জিলহজ সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত যেকোনো সময়) আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।
৩. তাওয়াফে জিয়ারত: ১০ই জিলহজ থেকে ১২ই জিলহজের মধ্যে কাবা শরীফ তাওয়াফ করা।
হজ্জের ওয়াজিব ৬টি
অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মতে হজ্জের প্রধান ওয়াজিব কাজগুলো হলো:
সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করা: হজ্জের তাওয়াফের পর এই দুই পাহাড়ের মাঝে সাতবার আসা-যাওয়া করা。
মুজদালিফায় অবস্থান: ১০ই জিলহজ সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগে অন্তত কিছু সময় মুজদালিফায় অবস্থান করা。
শয়তানকে পাথর (কংকর) মারা: ১০, ১১ ও ১২ই জিলহজ মিনায় নির্ধারিত তিনটি স্তম্ভে কংকর নিক্ষেপ করা।
কোরবানি করা: যারা হজ্জে তামাত্তু বা কিরান পালন করছেন, তাদের জন্য কোরবানি করা আবশ্যক।
মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা: কংকর নিক্ষেপ ও কোরবানির পর মাথা ন্যাড়া করা বা চুল ছেঁটে ইহরাম থেকে বের হওয়া।
বিদায়ী তাওয়াফ: মক্কা থেকে নিজ দেশে ফেরার আগে সবশেষে কাবা শরীফ তাওয়াফ করা (এটি মক্কাবাসী ছাড়া বাইরের হাজীদের জন্য ওয়াজিব)।
(দ্রষ্টব্য: কিছু আলেমের মতে হজ্জে কোরবানি এবং ইহরামের মিকাত মেনে চলাকেও পৃথক ওয়াজিব হিসেবে গণ্য করা হয়, ফলে ওয়াজিবের সংখ্যা ৭টি বলে উল্লেখ করা হয়)।
হজ্জের প্রকার ও নিয়ম
হজ্জ প্রধানত তিন প্রকার। আপনি কোন নিয়মে হজ্জ করবেন, তার ওপর ভিত্তি করে কাজের ধারাবাহিকতায় কিছুটা পার্থক্য থাকে। নিচে সহজভাবে তিন প্রকার হজ্জের বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. হজ্জে তামাত্তু (Hajj al-Tamattu)
এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজ পদ্ধতি। অধিকাংশ হাজী এই নিয়মে হজ্জ করেন।
নিয়ম: প্রথমে শুধু উমরাহর নিয়তে ইহরাম বেঁধে উমরাহ শেষ করে ইহরাম খুলে সাধারণ পোশাকে ফিরে আসা। এরপর ৮ই জিলহজ আবার নতুন করে হজ্জের নিয়তে ইহরাম বাঁধা।
কোরবানি: এই হজ্জে কোরবানি করা ওয়াজিব।
২. হজ্জে কিরান (Hajj al-Qiran)
এটি সবচেয়ে বেশি সওয়াবের কাজ বলে গণ্য করা হয়, তবে এটি বেশ কঠিন।
নিয়ম: একই সাথে হজ্জ ও উমরাহর নিয়তে ইহরাম বাঁধা। প্রথমে উমরাহ করতে হয়, কিন্তু উমরাহ শেষ করার পর ইহরাম খোলা যায় না। হজ্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটানা ইহরাম অবস্থায় থাকতে হয়।
কোরবানি: এই হজ্জে কোরবানি করা ওয়াজিব।
৩. হজ্জে ইফরাদ (Hajj al-Ifrad)
এটি মূলত মক্কাবাসীদের জন্য বা যারা শুধু হজ্জ করতে চান তাদের জন্য।
নিয়ম: এতে উমরাহ নেই, শুধু হজ্জের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হজ্জের কাজগুলো সম্পন্ন করা।
কোরবানি: এই হজ্জে কোরবানি করা ওয়াজিব নয়, তবে চাইলে নফল হিসেবে করা যায়।