{{ news.section.title }}
ধৈর্য নিয়ে আল্লাহর বাণী ও হাদিস যা আমাদের জীবনের অংশ
ইসলামে ধৈর্য (সবর) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ, যা বিপদে আল্লাহর সাহায্য নিয়ে আসে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন এবং তাদের অপরিসীম পুরস্কার, জান্নাত ও সাফল্যের ওয়াদা করেছেন। হাদিস অনুযায়ী, প্রকৃত ধৈর্য হলো বিপদের প্রথম আঘাতেই তা ধারণ করা। মুমিনের প্রতিটি অবস্থায়—সুখে-দুঃখে—ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা কল্যাণকর।
ধৈর্য বা 'সবর' ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গুণ, যা মুমিনের ঈমানের অর্ধেক হিসেবে গণ্য করা হয়। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে ধৈর্যশীলদের জন্য অনেক বড় সুসংবাদ ও পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে।
ধৈর্য নিয়ে পবিত্র কুরআনের বাণী (আল্লাহর বাণী)
মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে অসংখ্যবার ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন:
আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" [সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৩]
অগণিত পুরস্কার: "ধৈর্যশীলদের তো তাদের প্রতিদান পূর্ণমাত্রায় দেয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই।" [সুরা আজ-জুমার, আয়াত: ১০]
সাফল্যের চাবিকাঠি: "হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্য্যে অটল থাক... আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও।" [সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ২০০]
বিপদে সাহায্যের মাধ্যম: "তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।" [সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৩]
সুসংবাদ: "তুমি সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের।" [সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৫]
ধৈর্য নিয়ে হাদিস (রাসূলুল্লাহ সা.-এর বাণী)
প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ধৈর্যের গুরুত্ব ও এর আধ্যাত্মিক সুফল সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলেছেন:
সর্বোত্তম দান: "ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ততর কোনো দান আর কাউকে দেয়া হয়নি।" (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
প্রকৃত ধৈর্য: "বিপদের প্রথম ধাক্কার সময় ধৈর্য ধারণ করাই হলো প্রকৃত ধৈর্য।" (সহীহ বুখারী)
জান্নাতের নিশ্চয়তা: আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আমি যখন আমার কোনো মুমিন বান্দার প্রিয়জনকে (মৃত্যুর মাধ্যমে) নিয়ে যাই এবং সে ধৈর্যের সাথে সওয়াবের আশা করে, তখন আমার কাছে তার জন্য জান্নাত ছাড়া আর কোনো পুরস্কার নেই।" (সহীহ বুখারী)
পাপ মোচন: "কোনো মুসলমানের ওপর কোনো কষ্ট, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কিংবা দুশ্চিন্তা আসলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।" (সহীহ বুখারী)
ধৈর্যের প্রকারভেদ
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ধৈর্য মূলত তিন ধরনের হয়:
পাপ থেকে দূরে থাকা: অন্যায় কাজের হাতছানি আসার পর নিজেকে সংযত রাখা।
ইবাদতে ধৈর্য: আল্লাহর নির্দেশ পালনে কষ্ট হলেও তাতে অটল থাকা।
বিপদ-আপদে ধৈর্য: রোগ, শোক বা অভাবে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।