{{ news.section.title }}
নিঃসম্বল থেকে উত্তম জীবিকা! মুসা (আ.)-এর সেই বিশেষ দোয়া ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
বেকারত্ব বা জীবনধারণের জন্য একটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান বর্তমান সময়ের অন্যতম একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কেবল পার্থিব চেষ্টাই নয়, বরং মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে সাহায্য চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা সম্ভব। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হজরত মুসা আলাইহিস সালামের জীবন। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হজরত মুসা (আ.)-এর জীবনকাহিনি আমাদের শেখায় কীভাবে চরম সংকট ও নিঃসম্বল অবস্থায়ও মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে জীবন বদলে ফেলা যায়।
হজরত মুসা (আ.) যখন মিশরের নগরীতে বসবাস করছিলেন, তখন একদিন এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এক কিবতী (ফেরাউনের বংশীয়) এবং এক ইসরাঈলীর লড়াই থামাতে গিয়ে কিবতীকে একটি ঘুষি মারেন। তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্য না থাকলেও, মুসা (আ.)এর আঘাতে কিবতী মারা যায়। পরবর্তীতে মুসা (আ.) বুঝতে পারলেন এটি শয়তানের একটি প্ররোচনা ছিল। কুরআনের ভাষায় তিনি একে 'শয়তানের কাণ্ড' বলে অভিহিত করেন। পরদিন আবারও একই ইসরাঈলী ব্যক্তিকে অন্য এক ব্যক্তির সাথে বিবাদে লিপ্ত দেখে মুসা (আ.) ইসরাঈলী ব্যক্তিটিকে বলেন- ‘তুমি তো স্পষ্টই একজন বিভ্ৰান্ত ব্যাক্তি।’ অতঃপর মুসা (আ.) যখন উভয়ের শক্রকে ধরতে উদ্যত হলেন, ইসরাঈলী লোকটি ভয় করেছিল যে, মূসা আলাইহিসসালাম বুঝি তাকেই আক্রমণ করতে উদ্যত হচ্ছে। তাই পরবর্তীতে ইসরাঈলী লোকটির মাধ্যমেই আগের দিনের হত্যার ঘটনাও ফাঁস হয়ে যায়। এই সংবাদ ফেরাউনের দরবারে পৌঁছালে মুসা (আ.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
তখন সতর্কতার সাথে কোনো পাথেয় ছাড়াই মুসা (আ.) মিশর ত্যাগ করেন। মাদইয়ান শহরটি ছিল ফেরাউনের সীমানার বাইরে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি যখন মাদইয়ানে পৌঁছান, তখন তিনি শারীরিকভাবে ক্লান্ত এবং মানসিকভাবেও সহায়হীন। সেই সংকটময় মুহূর্তে তিনি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছিলেন, ‘হে আমার রব! আপনি যালিম সম্প্রদায় থেকে আমাকে রক্ষা করুন।’
মাদইয়ানের কূপের পাড়ে পৌঁছে মুসা (আ.) দেখলেন দুই নারী তাদের পশুদের আগলে দাঁড়িয়ে আছেন। তারা পুরুষদের ভিড়ে মিশতে চাননি বলে অপেক্ষা করছিলেন। মুসা (আ.) নিজের কষ্ট উপেক্ষা করে তাদের সাহায্য করলেন। এরপর তিনি ছায়ায় বসে সেই দোয়াটি পড়লেন:
‘রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকির।’ (সুরা কাসাস: আয়াত ২৪)
এই দোয়ার বরকতে মহান আল্লাহ তাঁর জন্য কেবল চাকরির ব্যবস্থাই করেননি, বরং দীর্ঘমেয়াদী আশ্রয় এবং একটি নিরাপদ পরিবারের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন।
মুসা (আ.)-এর এই ঘটনা থেকে আমাদের জন্য তিনটি বড় শিক্ষা রয়েছে:
১। নবী হওয়া সত্ত্বেও তিনি অন্যের অধীনে মজুর হিসেবে কাজ করতে দ্বিধা করেননি।
২। মুসা (আ.)-এর চারিত্রিক গুণাবলীই তাঁকে চাকরি পেতে সাহায্য করেছিল।
৩। বিপদে অস্থির না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং হাত গুটিয়ে বসে না থেকে সাধ্যমতো অন্যের উপকার করা।
আপনি যদি আজ বেকারত্ব বা অভাবের মধ্য দিয়ে যান, তবে মুসা (আ.)-এর এই আমলটি আপনার পাথেয় হতে পারে। নিজের যোগ্যতাকে কাজে লাগান এবং সেই সাথে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখুন, নিশ্চয়ই তিনি উত্তম রিযিকদাতা।