{{ news.section.title }}
ইশরাকের নামাজের সময়সূচি ও বিধান
ইশরাকের নামাজ সূর্যোদয়ের ১৫-২০ মিনিট পর থেকে শুরু হয়ে দুপুরের আগ পর্যন্ত (সাধারণত সকাল ৮:৩০-৯:০০ টা পর্যন্ত) আদায় করা একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল নামাজ। জামাতে ফজরের নামাজ পড়ে জায়নামাজে বসে জিকির-আজকারে মশগুল থেকে সূর্যোদয়ের পর ২ বা ৪ রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম, যা একটি পূর্ণ হজ ও উমরার সওয়াব এনে দেয়।
ইশরাকের নামাজ হলো সূর্যোদয়ের পর আদায়যোগ্য একটি নফল ইবাদত, যার মাধ্যমে এক পূর্ণ হজ ও ওমরার সওয়াব পাওয়া যায়।
ইশরাকের নামাজের সময়সূচি
ইশরাকের ওয়াক্ত মূলত সূর্য উদিত হওয়ার পর থেকে শুরু হয়। তবে সূর্য ওঠার সাথে সাথেই নামাজ পড়া নিষিদ্ধ, তাই কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয়।
শুরুর সময়: সূর্যোদয়ের প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর থেকে এই নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়।
শেষের সময়: ইশরাকের সময় থাকে দিনের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত। তবে অনেকে জোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায় বলে মত দিয়েছেন।
উত্তম সময়: সূর্যোদয়ের এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে পড়ে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
সময়ের পার্থক্য (ইশরাক বনাম চাশত)
অনেকে ইশরাক ও চাশতের (সালাতুদ দুহা) নামাজকে আলাদা মনে করেন, আবার অনেকে একই নামাজ বলেন:
ইশরাক: সূর্যোদয়ের পর প্রথম ভাগে পড়লে তাকে ইশরাক বলা হয়।
চাশত (দুহা): বেলা যখন বেশ বেড়ে যায় এবং সূর্যের তাপ প্রখর হয়, তখন পড়লে তাকে চাশত বলা হয়।
সহজ হিসাব: সূর্যোদয়ের ১৫-২০ মিনিট পর থেকে দুপুর হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো সময়ই এই নফল নামাজ পড়া যায়। তবে সূর্যোদয়ের পরপর পড়লে একটি হজ ও ওমরার সওয়াব পাওয়া যায়।
মনে রাখবেন: ঠিক যখন সূর্য মাথার উপরে থাকে (জাওয়াল বা মধ্যাহ্ন), তখন যেকোনো নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। তাই জোহরের অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগেই এই নামাজ শেষ করে নেওয়া উচিত।
নামাজের বিধান ও নিয়ম
ইশরাক একটি নফল বা সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা (ঐচ্ছিক সুন্নত) নামাজ।
রাকাত সংখ্যা: ইশরাকের নামাজ সর্বনিম্ন ২ রাকাত এবং সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১২ রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়। তবে সাধারণত ২ বা ৪ রাকাত পড়াই প্রচলিত।
নিয়ম: অন্যান্য নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে এই নামাজ আদায় করতে হয়।
সওয়াব লাভের শর্ত: ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে ওই স্থানে বসেই জিকির-আজকার করা এবং সূর্যোদয়ের পর এই নামাজ আদায় করা পূর্ণ সওয়াব লাভের বিশেষ উপায়।
ইশরাকের নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত
হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি জামাতে ফজরের নামাজ পড়ে ওই স্থানে বসে আল্লাহর জিকির করে এবং সূর্যোদয়ের পর দুই রাকাত ইশরাকের নামাজ পড়ে, সে একটি পরিপূর্ণ হজ ও ওমরার সওয়াব লাভ করে (তিরমিজি)।
ইশরাকের নামাজ অত্যন্ত সওয়াব ও বরকতময় একটি নফল ইবাদত। হাদিস শরিফে এই নামাজের বিশেষ কিছু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে:
হজ ও ওমরার সমান সওয়াব
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করে এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকির করে, এরপর দুই রাকাত নামাজ (ইশরাক) পড়ে; সে একটি পূর্ণ হজ ও একটি পূর্ণ ওমরার সওয়াব পাবে।" (সুনানে তিরমিজি)
গুনাহ মাফ ও আল্লাহর নিরাপত্তা
ইশরাক আদায়কারীর সওয়াব আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
দিনের শুরুতে এই আমলটি করলে সারাদিনের কাজের জন্য আল্লাহ তাআলা যথেষ্ট হয়ে যান এবং বান্দাকে বিশেষ নিরাপত্তা দান করেন।
এটি আমলকারীর আমলনামায় নেকির পাল্লা ভারী করে এবং ছোটখাটো গুনাহ মোচনে সহায়ক হয়।
মনের প্রশান্তি ও আত্মশুদ্ধি
সূর্যোদয়ের শান্ত সময়ে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকলে অন্তরে প্রশান্তি অনুভূত হয়। এটি অলসতা দূর করে এবং সারাদিনের কাজে বরকত ও একাগ্রতা বাড়িয়ে দেয়।