{{ news.section.title }}
জেনে নিন জান্নাতি ২০ সাহাবির নাম
দুনিয়াতে জীবদ্দশায় রাসূলুল্লাহ (সা.) যাদের জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০ জন সাহাবী হলেন: আশারায়ে মুবাশশারা (১-১০) এবং আরও ১০ জন বিশিষ্ট সাহাবী। তাঁরা হলেন:
দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন এমন অনেক সাহাবি রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে ১০ জন সাহাবিকে একই হাদিসে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল, যাদেরকে বলা হয় ‘আশারায়ে মুবাশশারা’। এ ছাড়াও আরও অনেক সাহাবি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এবং প্রেক্ষাপটে নবী করিম (সা.)-এর কাছ থেকে জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করেছেন।
নিচে ২০ জন জান্নাতি সাহাবির নাম তুলে ধরা হলো:
আশারায়ে মুবাশশারা (প্রথম ১০ জন)
আবু বকর সিদ্দিক (রা.): ইসলামের প্রথম খলিফা এবং রাসুল (সা.)-এর হিজরতের সাথী।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.): ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা, যার কঠোরতা ও ন্যায়বিচারের জন্য সত্য-মিথ্যা পৃথক হয়ে যেত।
উসমান ইবনে আফফান (রা.): তৃতীয় খলিফা, অত্যন্ত লজ্জিত ও দয়ালু ছিলেন; আল-কুরআনের পাণ্ডুলিপি সংকলন করেন।
আলী ইবনে আবু তালিব (রা.): চতুর্থ খলিফা ও রাসুল (সা.)-এর জামাতা; তার সাহসিকতার জন্য 'আসাদুল্লাহ' (আল্লাহর সিংহ) বলা হয়।
তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ (রা.): ওহুদ যুদ্ধে রাসুল (সা.)-কে রক্ষায় নিজের দেহকে ঢাল বানিয়েছিলেন।
জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.): রাসুল (সা.)-এর ফুফাতো ভাই এবং তাঁর বিশেষ দেহরক্ষী বা হাওয়ারী ছিলেন।
আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.): ইসলামের জন্য অকাতরে দান করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী সাহাবী।
সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রা.): প্রথম সাহাবী যিনি ইসলামের জন্য তীর নিক্ষেপ করেছিলেন এবং পারস্য বিজেতা।
সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.): দোয়া কবুল হওয়া সাহাবীদের একজন এবং ইসলামের শুরুর দিকের একনিষ্ঠ খাদেম।
আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.): মুসলিম উম্মাহর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তি এবং সিরিয়া বিজেতা।
অন্যান্য ১০ সাহাবী ও সাহাবিয়া
হাসান ইবনে আলী (রা.): রাসুল (সা.)-এর বড় নাতি; জান্নাতি যুবকদের সর্দার।
হুসাইন ইবনে আলী (রা.): রাসুল (সা.)-এর ছোট নাতি এবং কারবালার প্রান্তরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইকারী শহীদ।
খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.): ইসলামের প্রথম মুমিন এবং রাসুল (সা.)-এর সবচেয়ে বিপদের সময়ের সাথী।
ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (রা.): রাসুল (সা.)-এর কনিষ্ঠ কন্যা এবং জান্নাতি নারীদের নেত্রী।
বেলাল ইবনে রাবাহ (রা.): ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন; তিনি অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েও ঈমান ছাড়েননি।
জাফর ইবনে আবু তালিব (রা.): মুতার যুদ্ধে দুই হাত হারিয়ে শহীদ হন; জান্নাতে তাকে ডানা দেওয়া হবে।
হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.): রাসুল (সা.)-এর চাচা এবং ওহুদ যুদ্ধের মহান শহীদ।
আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.): মদিনার বড় ইহুদি পণ্ডিত ছিলেন, যিনি সত্য উপলব্ধি করে ইসলাম গ্রহণ করেন।
উকাশা ইবনে মিহসান (রা.): রাসুল (সা.)-এর দোয়ার বরকতে তিনি বিনা হিসেবে জান্নাতে যাওয়ার সুসংবাদ পান।
সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রা.): ইসলামের প্রথম শহীদ নারী, যাকে আবু জাহেল নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ইসলামের ইতিহাসে এই সাহাবীরা তাদের ত্যাগ ও ঈমানের কারণে দুনিয়াতেই জান্নাতের নিশ্চয়তা পেয়েছিলেন।
ইসলামে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা
ইসলামে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চে। তারা নবীজি (সা.)-এর সরাসরি ছাত্র এবং ইসলামের প্রথম প্রচারক। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে তাদের মর্যাদার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
পবিত্র কুরআনের আলোকে সাহাবাদের মর্যাদা
কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা সাহাবাদের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
আল্লাহর সন্তুষ্টি: আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট (সূরা তওবা: ১০০)।
জান্নাতের সুসংবাদ: আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত ও মহা সাফল্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (সূরা তওবা: ১০০)।
উত্তম আদর্শ: আল্লাহ সাহাবাদের ঈমানকে পরবর্তী মানুষের জন্য ঈমানের মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন (সূরা বাকারা: ১৩৭)।
ক্ষমা ও অনুগ্রহ: হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারী সাহাবাদের ওপর আল্লাহ বিশেষ প্রশান্তি ও অনুগ্রহ নাজিল করেছিলেন (সূরা ফাতহ: ১৮)।
হাদিসের আলোকে সাহাবাদের মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবাদের ভালোবাসার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের গালি দিতে নিষেধ করেছেন।
সর্বোত্তম যুগ: নবীজি (সা.) বলেছেন, "আমার যুগের মানুষ (সাহাবীগণ) সর্বোত্তম, তারপর তাদের পরবর্তী যুগ..." (বুখারি)।
সমালোচনায় নিষেধাজ্ঞা: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। ওহুদ পাহাড় সমান সোনা দান করলেও তাদের অল্প ত্যাগের সমান হবে না (মুসলিম)।
হেদায়েতের নক্ষত্র: সাহাবাগণ হেদায়েতের নক্ষত্রতুল্য; তাদের অনুসরণ করলে পথভ্রষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না।
ঈমানের আলামত: আনসার ও মুহাজিরদের ভালোবাসা ঈমানের অংশ এবং তাদের ঘৃণা করা মুনাফেকির লক্ষণ।