{{ news.section.title }}
দোয়া ইউনুসের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
দোয়া ইউনুস (لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ) হলো বিপদে, দুশ্চিন্তায় ও মুসিবতে আল্লাহকে ডাকার অত্যন্ত কার্যকরী একটি দোয়া, যা ইউনুস (আ.) মাছের পেটে থাকা অবস্থায় পাঠ করেছিলেন। এর বাংলা উচ্চারণ হলো: "লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্ জালিমীন"। এর অর্থ: "হে আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তুমি পবিত্র মহান, নিশ্চয়ই আমি সীমা লঙ্ঘনকারী/জালিমদের অন্তর্ভুক্ত"।
বিপদ-আপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য দোয়া ইউনুস অত্যন্ত কার্যকরী এবং ফজিলতপূর্ণ একটি দোয়া। এটি পবিত্র কুরআনের সুরা আল-আম্বিয়ার ৮৭ নম্বর আয়াতের একটি অংশ।
দোয়া ইউনুস
আরবি:
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
বাংলা উচ্চারণ:
লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।
(অথবা: লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায-যা-লিমীন)
বাংলা অর্থ:
"তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তুমি পবিত্র-মহান। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের (অপরাধী/সীমালঙ্ঘনকারী) অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছি"।
দোয়া ইউনুসের ফজিলত ও উপকারিতা
বিপদ থেকে মুক্তি: মাছের পেটে থাকা অবস্থায় হজরত ইউনুস (আ.) এই দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন এবং আল্লাহ তাকে মহাবিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।
দোয়া কবুল হওয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি বিপদে পড়ে এই দোয়া পাঠ করে, তবে মহান আল্লাহ তার দোয়া অবশ্যই কবুল করবেন এবং তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন (তিরমিজি)।
মানসিক প্রশান্তি: এই দোয়া পাঠ করলে অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা দূর হয়।
ঈমান মজবুত করা: এটি পাঠকারীর আধ্যাত্মিক বিকাশ ত্বরান্বিত করে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করে।
কিছু জরুরি তথ্য
পাঠের নিয়ম: এই দোয়া পাঠের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা (যেমন ১.২৫ লক্ষ বার বা সোয়া লক্ষ বার) হাদীসে উল্লেখ নেই। বিপদে পড়লে বা প্রয়োজনে যেকোনো সময় যত বেশি সম্ভব একাগ্রতার সাথে এটি পাঠ করা যায়।
পটভূমি: হজরত ইউনুস (আ.) রাগ করে দেশ ত্যাগ করার সময় উত্তাল সমুদ্রে ঝাঁপ দেন এবং একটি বিশাল মাছ তাকে গিলে ফেলে। সেই মাছের পেটে ঘুটঘুটে অন্ধকার অবস্থায় তিনি এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন।
দোয়া ইউনুস নাজিল হওয়ার এক বিস্ময়কর ও শিক্ষণীয় ইতিহাস
দোয়া ইউনুস নাজিল হওয়ার পেছনে এক বিস্ময়কর ও শিক্ষণীয় ইতিহাস রয়েছে। এটি মূলত হজরত ইউনুস (আ.)-এর সেই বিশেষ প্রার্থনা, যা তিনি মাছের পেটে থাকা অবস্থায় আল্লাহর দরবারে করেছিলেন।
ঘটনাটি সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো:
১. নিজ কওমের ওপর ইউনুস (আ.)-এর রাগ
হজরত ইউনুস (আ.) ইরাকের নিনেভা নামক অঞ্চলের মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় দাওয়াত দেওয়ার পরও যখন তারা ঈমান আনল না, তখন ইউনুস (আ.) আল্লাহর নির্দেশ আসার আগেই অভিমান করে এবং রাগ করে এলাকা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। যাওয়ার সময় তিনি বলে যান যে, তাদের ওপর আল্লাহর আজাব আসবে।
২. উত্তাল সমুদ্র ও লটারি
তিনি এলাকা ছেড়ে একটি জাহাজে চড়লেন। মাঝ সমুদ্রে যাওয়ার পর জাহাজটি ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবুডুবু অবস্থা হয়। নাবিকরা মনে করল, জাহাজে এমন কেউ আছে যার কারণে এই বিপদ। তখন তারা লটারি করল এবং তিনবারই ইউনুস (আ.)-এর নাম উঠল। নিয়ম অনুযায়ী তাকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হলো।
৩. মাছের পেটে বন্দি হওয়া
আল্লাহর নির্দেশে একটি বিশাল মাছ তাকে গিলে ফেলল। তবে মাছটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন সে ইউনুস (আ.)-এর কোনো হাড় না ভাঙে বা ক্ষতি না করে। মাছের পেটের ভেতরকার অন্ধকার, তার ওপর সমুদ্রের তলার অন্ধকার—এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ইউনুস (আ.) বুঝতে পারলেন যে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া এলাকা ত্যাগ করা তার জন্য সঠিক হয়নি।
৪. সেই বিশেষ প্রার্থনা (দোয়া ইউনুস)
মাছের পেটে থাকা অবস্থায় তিনি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা শুরু করেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করে প্রার্থনা করেন:
"লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন"
(আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র, আমিই তো জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি।)
৫. মুক্তি লাভ
আল্লাহ তাআলা তার এই আন্তরিক তওবা কবুল করেন। মাছটি তাকে সমুদ্রের তীরে উগরে দেয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি আবার তার কওমের কাছে ফিরে যান এবং দেখেন তারা সবাই ইতঃমধ্যেই আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে।
একটি বিশেষ পয়েন্ট:
কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, যদি ইউনুস (আ.) এই তাসবিহ বা দোয়া পাঠ না করতেন, তবে কিয়ামত পর্যন্ত তাকে ওই মাছের পেটেই থাকতে হতো। (সুরা সাফফাত, ১৪৩-১৪৪ আয়াত)।