{{ news.section.title }}
কঠিন রোগ ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তির দোয়া
ইসলামে রোগ, যন্ত্রণা, কষ্ট ও ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন দোয়া ও আমল বর্ণিত হয়েছে। নবীজী (সা.) অসুস্থ হলে বা ব্যাধি থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন। নিচে রোগ ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তির কিছু বিশেষ দোয়া ও আমল দেওয়া হলো:
রোগ-ব্যাধি ও শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বেশ কিছু কার্যকরী দোয়ার বর্ণনা রয়েছে। আপনার বা আপনার প্রিয়জনের সুস্থতার জন্য নিচের দোয়াগুলো পাঠ করতে পারেন।
১. ব্যথা বা যন্ত্রণার স্থানে হাত রেখে পড়ার দোয়া
শরীরের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ব্যথা হলে সেখানে ডান হাত রেখে প্রথমে ৩ বার 'বিসমিল্লাহ' পড়ুন, তারপর নিচের দোয়াটি ৭ বার পাঠ করুন:
আরবি: أَعُوذُ بِاللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণ: আউযু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযিরু।
অর্থ: আল্লাহর মর্যাদা ও তাঁর কুদরতের মাধ্যমে আমি সেই অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইছি, যা আমি অনুভব করছি এবং যার আশঙ্কা করছি। (সহীহ মুসলিম)
২. নবীজি (সা.)-এর শেখানো সর্বশ্রেষ্ঠ আরোগ্য লাভের দোয়া
অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে বা নিজের রোগমুক্তির জন্য এই দোয়াটি অত্যন্ত কার্যকরী:
আরবি: اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ مُذْهِبَ الْبَاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شَافِيَ إِلاَّ أَنْتَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বান নাস, আযহিবিল বাস, ইশফি আনতাশ শাফি, লা শিফায়া ইল্লা শিফাউকা, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা।
অর্থ: হে আল্লাহ! মানুষের প্রভু, কষ্ট দূর করে দাও। শেফা (সুস্থতা) দান করো, তুমিই একমাত্র শেফাদানকারী। তোমার শেফা ছাড়া কোনো শেফা নেই। এমন শেফা দাও যা কোনো রোগ বাকি রাখে না। (সহীহ বুখারী)
৩. কঠিন ও দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তির দোয়া
ক্যান্সার বা মহামারীর মতো কঠিন রোগ থেকে বাঁচতে নবীজি (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন:
আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুযামি, ওয়া মিন সাইয়্যিয়িল আসক্বাম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ধবল, উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ এবং সকল প্রকার কঠিন ব্যাধি থেকে আশ্রয় চাইছি। (আবু দাউদ)
৪. কুরআন থেকে ছোট আমল
সুরা ফাতিহা: সুরা ফাতিহাকে 'সুরাতুশ শিফা' বা রোগমুক্তির সুরা বলা হয়। সাত বার পাঠ করে অসুস্থ ব্যক্তির গায়ে ফুঁ দিলে আল্লাহ আরোগ্য দান করেন।
হযরত আইয়ুব (আ.)-এর দোয়া: 'রব্বি আন্নি মাসসানিয়ায যুররু ওয়া আন্তা আরহামুর রাহিমীন।' অর্থ: 'হে আমার পালনকর্তা, আমি যন্ত্রণায় আক্রান্ত হয়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।'
কোরআনের আলোকে রোগ মুক্তি
পবিত্র কোরআনকে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য 'শিফা' বা আরোগ্য হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ বলেন, "আমি কোরআনে এমন কিছু অবতীর্ণ করি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।" (সুরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৮২)।
কোরআনের আলোকে রোগ মুক্তির প্রধান মাধ্যম ও আমলগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. সুরা ফাতিহা (সর্বশ্রেষ্ঠ আরোগ্য)
সুরা ফাতিহাকে হাদিসে 'সুরাতুশ শিফা' বলা হয়েছে। যেকোনো রোগ বা যন্ত্রণায় এটি পড়ে ফুঁ দেওয়া অত্যন্ত কার্যকরী।
নিয়ম: বিশ্বাসভরে সুরা ফাতিহা পাঠ করে ব্যথার স্থানে বা পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করা।
ফলাফল: এটি শারীরিক ও মানসিক উভয় রোগের জন্য মহৌষধ।
২. হযরত আইয়ুব (আ.)-এর দোয়া
দীর্ঘস্থায়ী বা কঠিন রোগ থেকে মুক্তির জন্য কোরআনে বর্ণিত হযরত আইয়ুব (আ.)-এর এই দোয়াটি অতুলনীয়:
আয়াত: "রব্বি আন্নি মাসসানিয়ায যুররু ওয়া আন্তা আরহামুর রাহিমীন।" (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৩)
অর্থ: "হে আমার পালনকর্তা, আমি কষ্টে পতিত হয়েছি, আর আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।"
শিক্ষা: চরম অসুস্থতায়ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর দয়া ভিক্ষা করা।
৩. সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস (তিন কুল)
নবীজি (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে এবং অসুস্থ অবস্থায় এই তিনটি সুরা পাঠ করতেন।
আমল: এই তিনটি সুরা পড়ে দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নেওয়া।
উপকারিতা: এটি অনিষ্টতা, নজর লাগা এবং জাদুটোনা থেকে হেফাযত করে।
৪. মধু ও কালোজিরার ব্যবহার
কোরআনে মধুর গুণগান গাওয়া হয়েছে এবং হাদিসে একে রোগের প্রতিকার বলা হয়েছে।
কোরআনের আয়াত: মধুর মধ্যে মানুষের জন্য আরোগ্য রয়েছে। (সুরা নাহল, আয়াত: ৬৯)
পরামর্শ: দোয়া ও আমলের পাশাপাশি মধু সেবন করা একটি কোরআনিক পদ্ধতি।
৫. মানসিক প্রশান্তির জন্য জিকির
কোরআন বলে, অনেক সময় মানসিক অস্থিরতা থেকে শারীরিক রোগ সৃষ্টি হয়।
আয়াত: "জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই কলব বা অন্তর প্রশান্ত হয়।" (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)
আমল: আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং সবর (ধৈর্য) ধারণ করা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
পরামর্শ:
পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে দোয়াগুলো পড়ুন।
দোয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ঔষধ সেবন করা সুন্নাহ।