{{ news.section.title }}
এক বছরে তিন ঈদ ও দুই হজ, মুসলমানদের সামনে বিরল ধর্মীয় অভিজ্ঞতা
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ইসলামি চন্দ্রবর্ষ ও গ্রেগরিয়ান সৌরবর্ষের সময়গত ব্যবধানের কারণে ভবিষ্যতে মুসলমানদের জন্য তৈরি হতে যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী ও বিরল সময়চক্র। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে একই ইংরেজি বছরে তিনটি ঈদ এবং দুইবার হজ পালনের সুযোগ পাবেন বিশ্বের মুসলমানরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই বছর দুটি ঈদুল আজহা ও একটি ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে দুটি পৃথক হজ। সৌদি আরবের খ্যাতনামা জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও জলবায়ু বিশ্লেষক ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানিয়েছেন, হিজরি ক্যালেন্ডার প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসার কারণেই এমন বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি পালিত হবে প্রথম ঈদুল আজহা, যা হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজের সঙ্গে মিলবে। এ দিনই সম্পন্ন হবে বছরের প্রথম হজ। এরপর হিজরি বর্ষ পূর্ণ একটি চক্র অতিক্রম করে আবারও একই ইংরেজি বছরের মধ্যে ফিরে আসবে। ফলে ২৬ ডিসেম্বর ২০৩৯ সালে দ্বিতীয়বার হজ শেষ হবে এবং পালিত হবে আরেকটি ঈদুল আজহা, যা পড়বে হিজরি ১৪৬১ সনের ১০ জিলহজে।
এই দুই হজের আগে দুটি আলাদা আরাফার দিন পালিত হবে, যা হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ছাড়া দুই ঈদুল আজহার মধ্যবর্তী সময়ে, সম্ভাব্যভাবে ১৯ অক্টোবর ২০৩৯ সালে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ফলে রোজা, হজ, কোরবানি ও ঈদের আনন্দ মিলিয়ে মুসলমানদের জন্য তৈরি হবে এক অনন্য ধর্মীয় সময়কাল।
জ্যোতির্বিদরা জানান, চন্দ্রবর্ষে বছরের দৈর্ঘ্য ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন হওয়ায় ইসলামি মাসগুলো প্রতি বছর এগিয়ে আসে। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি সূর্যভিত্তিক হওয়ায় বছরে থাকে ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই পার্থক্যের ফলেই নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি দেখা দেয়।
উল্লেখ্য, এর আগেও এমন বিরল ঘটনা ঘটেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে একই ইংরেজি বছরে দুইবার রমজান মাস আসবে- একবার জানুয়ারিতে এবং আরেকবার ডিসেম্বরে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।