{{ news.section.title }}
আজানের জবাব কীভাবে দেবেন?
আজানের জবাব দেওয়া একটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং এটি সুন্নত। মুয়াজ্জিন আজানে যা বলেন, সাধারণত সেটিই পুনরাবৃত্তি করতে হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে।
আজানের জবাব দেওয়ার নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:
১. মুয়াজ্জিনের শব্দের পুনরাবৃত্তি
মুয়াজ্জিন যা বলবেন, আপনিও তা-ই বলবেন। যেমন:
মুয়াজ্জিন 'আল্লাহু আকবার' বললে জবাবে 'আল্লাহু আকবার' বলুন।
মুয়াজ্জিন 'আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' ও 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ' বললে জবাবে হুবহু তাই বলুন।
২. ব্যতিক্রম (হাইয়্যা আলা...)
মুয়াজ্জিন যখন নামাজের দিকে ডাক দেন, তখন জবাবে ভিন্ন বাক্য বলতে হয়:
'হাইয়্যা আলাস সালাহ' এবং 'হাইয়্যা আলাল ফালাহ' বলার সময় জবাবে বলুন: "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" (অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই)।
৩. ফজরের আজানে বিশেষ জবাব
ফজরের আজানে যখন মুয়াজ্জিন 'আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম' (ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম) বলেন, তখন বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী জবাবে একই বাক্য (আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম) বলতে হয়। (অনেকে এর জবাবে 'সাদাকতা ওয়া বারারতা' বলেন, তবে এটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়)।
৪. আজান শেষ হওয়ার পর আমল
আজান শেষ হলে নিচের আমলগুলো করা সুন্নত:
দরুদ শরীফ: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়ুন।
আজানের দোয়া: এরপর আজানের দোয়াটি পাঠ করুন:
"আল্লাহুম্মা রব্বা হাযিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাযিলাহ, ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযি ওয়া আদতাহ।"
আজানের জবাব দেওয়ার সময় চুপ থেকে মনোযোগ সহকারে আজান শোনা উচিত। এমনকি ইফতার করার সময় আজান শুরু হলেও মনোযোগ দিয়ে জবাব দেওয়া এবং আজান শেষে দোয়া করা উত্তম।
এখানে আজানের দোয়ার অর্থ এবং এর ফজিলত বা গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:
আজানের দোয়ার অর্থ
দোয়া: "আল্লাহুম্মা রব্বা হাযিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাযিলাহ, ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযি ওয়া আদতাহ।"
বাংলা অনুবাদ:
"হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের অধিপতি; মুহাম্মদ (সা.)-কে 'ওয়াসিলা' (জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর) ও মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে (মাকামে মাহমুদ) পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন।"
আজানের জবাব ও দোয়ার ফজিলত
হাদিস অনুযায়ী আজানের জবাব দেওয়া এবং দোয়া পড়ার বিশেষ কিছু ফজিলত রয়েছে:
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শাফায়াত (সুপারিশ): সহিহ বুখারির হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আজান শুনে উপরের দোয়াটি পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য নবী করিম (সা.)-এর শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে যাবে।
গুনাহ মাফ: মুয়াজ্জিনের সাক্ষ্যের (আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ...) জবাবে যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দেবে, তার পেছনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
দোয়া কবুলের বিশেষ সময়: আজান এবং ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে যে কোনো দোয়া করলে তা সাধারণত ফেরত দেওয়া হয় না (অর্থাৎ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে)।
জান্নাত লাভ: যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের সাথে সাথে মন থেকে আজানের বাক্যগুলো পাঠ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (সহিহ মুসলিম)।
টিপস: আজান শেষ হওয়ার পর প্রথমে দরুদ শরীফ পড়ে তারপর এই দোয়াটি পড়া সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী।