{{ news.section.title }}
হাঁটার অভ্যাসই যখন বান্দার গুনাহ মাফের উপায়
আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় মানুষ সুস্থ থাকার জন্য কতই না চেষ্টা করে। কেউ জিমে যান, কেউ সকালে পার্কে হাঁটেন, আবার কেউ চিকিৎসকের পরামর্শে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানও বলছে, নিয়মিত হাঁটা হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় এবং মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে হাঁটার গুরুত্ব কেবল শারীরিক সুস্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন মুমিন যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে হাঁটেন, তখন সেই হাঁটা পরিণত হয় ইবাদতে। প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে তার গুনাহ মাফ হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং জান্নাতের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ যে হাঁটা দুনিয়ায় শরীরকে সুস্থ রাখে, সেই হাঁটাই আখিরাতে নাজাতের কারণ হতে পারে।
ইসলাম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজগুলোকে নিয়তের মাধ্যমে ইবাদতে পরিণত করেছে। তাই মসজিদের দিকে হাঁটা শুধু একটি পথচলা নয়; এটি আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া, তাঁর ঘরের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ এবং নিজের ঈমানকে আরও দৃঢ় করার এক অনন্য মাধ্যম।
মসজিদের পথে হাঁটা-ইবাদত, ঈমান ও আত্মশুদ্ধির পথ
আজ আমরা শরীরচর্চার জন্য পার্ক, ট্র্যাক কিংবা জিমে হাঁটি। অথচ প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগেই শিখিয়েছেন- আল্লাহর ঘরের দিকে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ শুধু শরীর নয়, আত্মাকেও পরিশুদ্ধ করে।
বিশেষ করে ফজর ও এশার নামাজের জন্য ঘুমের আরাম ত্যাগ করে মসজিদের দিকে হাঁটা একজন মুমিনের আন্তরিকতা ও ঈমানের উজ্জ্বল নিদর্শন। যখন একজন মুসল্লি ওজু করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মসজিদের পথে বের হন, তখন প্রতিটি কদমের সঙ্গে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একটি করে গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
ইমাম নববী (রহ.) তাঁর শারহু সহিহ মুসলিম-এ উল্লেখ করেছেন, মসজিদে যাওয়ার পথে একজন মুসল্লির প্রতিটি পদক্ষেপ আল্লাহর কাছে মূল্যবান। কারণ সে প্রতিটি কদম কেবল একটি ভবনের দিকে নয়, বরং আল্লাহর ইবাদতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই সাধারণ হাঁটাও ইবাদতের মর্যাদা লাভ করে।
ইমাম ইবনু রাজাব আল-হাম্বলী (রহ.) বলেন, আল্লাহর পথে কষ্ট স্বীকার করে যে আমল করা হয়, তার প্রতিদানও আল্লাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। তাই দূরের মসজিদে হেঁটে যাওয়া কিংবা কষ্ট হলেও জামাতে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করা বান্দার ঈমানের আন্তরিকতার প্রমাণ।
কুরআনের নির্দেশ
আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ ۖ فَعَسَىٰ أُولَٰئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ
‘আল্লাহর মসজিদসমূহ তো কেবল তারাই আবাদ করে, যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ইমান আনে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, তারাই সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা আত-তওবাহ: আয়াত ১৮)
তাফসিরে ইবনু কাছীর (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, মসজিদ আবাদ করা শুধু ভবন নির্মাণ নয়; বরং নিয়মিত সালাত আদায়, আল্লাহর জিকির, কুরআন তিলাওয়াত এবং ইলম চর্চার মাধ্যমে মসজিদকে জীবন্ত রাখা। যারা নিয়মিত মসজিদমুখী হন, তাদের ঈমানের শক্তিরই এটি একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন-
وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا
‘আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য; অতএব আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে আহ্বান কর না।’ (সুরা আল-জিন: আয়াত ১৮)
এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়, মসজিদ কেবল ইবাদতের স্থান নয়; এটি আল্লাহর একত্ববাদের প্রতীক। তাই মসজিদে প্রবেশের প্রতিটি পদক্ষেপ একজন বান্দাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে।
মসজিদমুখী হৃদয়-মুমিনের অন্যতম পরিচয়
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিরা মসজিদকে নিজেদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছিলেন। তারা জানতেন, মসজিদের সঙ্গে যার সম্পর্ক যত গভীর হবে, তার ঈমানও তত শক্তিশালী হবে।
ইমাম গাজ্জালী (রহ.) ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন-এ উল্লেখ করেন, মানুষের অন্তর যেমন খাদ্যের প্রয়োজন অনুভব করে, তেমনি তার আত্মারও খাদ্য রয়েছে। আর সেই আত্মিক খাদ্যের অন্যতম বড় উৎস হলো আল্লাহর ঘর, যেখানে বান্দা দুনিয়ার ব্যস্ততা ভুলে একান্তভাবে তার রবের সামনে দাঁড়ায়।
তাই মসজিদে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হওয়ার মুহূর্ত থেকেই একজন মুমিনের আত্মশুদ্ধির যাত্রা শুরু হয়ে যায়।
হাদিসের আলোকে মসজিদে হাঁটার মর্যাদা
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ؟ ... إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ، وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ، وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ، فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ
‘আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহ মাফ করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? ... তা হলো-কষ্টের সময়ও সুন্দরভাবে ওজু করা, মসজিদের দিকে বেশি বেশি পদচারণা করা এবং এক নামাজের পর আরেক নামাজের অপেক্ষায় থাকা। এটাই (সওয়াবের দিক থেকে) রিবাত।’ (মুসলিম ২৫১)
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন-
مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ، ثُمَّ مَشَى إِلَى بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ لِيَقْضِيَ فَرِيضَةً مِنْ فَرَائِضِ اللَّهِ، كَانَتْ خَطْوَتَاهُ إِحْدَاهُمَا تَحُطُّ خَطِيئَةً، وَالْأُخْرَى تَرْفَعُ دَرَجَةً
‘যে ব্যক্তি নিজ ঘরে ওজু করে আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো এক ঘরের দিকে ফরজ সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে যায়, তার প্রতিটি দুই পদক্ষেপের একটির মাধ্যমে একটি গুনাহ মুছে দেওয়া হয় এবং অন্যটির মাধ্যমে একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়।’ (মুসলিম ৬৬৬)
এই দুটি হাদিসই স্পষ্ট করে যে, মসজিদের পথে হাঁটা কোনো সাধারণ চলাফেরা নয়; বরং প্রতিটি পদক্ষেপই আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত এক একটি নেক আমল। একজন মুসল্লি হয়তো বুঝতে পারেন না, কিন্তু তার প্রতিটি কদমের সঙ্গে আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করছেন এবং জান্নাতে তার মর্যাদা আরও উঁচু করে দিচ্ছেন।
দুনিয়া ও আখিরাত-দুই জগতের কল্যাণ
ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই যে, এটি মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতকে আলাদা করে দেখে না। বরং এমন জীবনব্যবস্থা শিক্ষা দেয়, যেখানে একটি আমল একই সঙ্গে পার্থিব উপকার এবং পরকালীন প্রতিদান বয়ে আনে। মসজিদের পথে হাঁটা তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
নিয়মিত হাঁটা যেমন শরীরকে কর্মক্ষম রাখে, তেমনি মসজিদমুখী পদচারণা হৃদয়কে আল্লাহর স্মরণে সজীব রাখে। এতে একদিকে শরীর সুস্থ থাকে, অন্যদিকে আত্মা ইবাদতের স্বাদ লাভ করে। একজন মুসল্লি যখন প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন তার জীবনে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা এবং আল্লাহভীতি-সবকিছুই ধীরে ধীরে দৃঢ় হয়ে ওঠে।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর 'মিফতাহু দারিস সা'আদাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেন, যে অন্তর নিয়মিত আল্লাহর ঘরের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে, সেই অন্তর গুনাহের অন্ধকার থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসে। কারণ মসজিদ মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর স্মরণে হৃদয়কে জীবন্ত রাখে।
দূরের মসজিদে হাঁটার প্রতিদান আরও বেশি
অনেক সময় মানুষ মনে করে, কাছের মসজিদের পরিবর্তে দূরের মসজিদে হেঁটে গেলে কষ্ট বেশি। কিন্তু ইসলামে এই কষ্টও নেকিতে পরিণত হয়।
হজরত উবাই ইবন কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, একজন আনসারি সাহাবির ঘর ছিল মদিনার সবচেয়ে দূরে। তবুও তিনি কখনো জামাতে নামাজ ছাড়তেন না। কেউ তাকে বললেন, একটি গাধা কিনে নিলে কষ্ট কম হতো। তখন তিনি বললেন, আমি চাই আমার মসজিদে যাওয়া এবং ফিরে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ আল্লাহর কাছে লেখা হোক। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে সুসংবাদ দিয়ে বলেন-
«قَدْ جَمَعَ اللَّهُ لَكَ ذَلِكَ كُلَّهُ»
অর্থ: "আল্লাহ তোমার জন্য এসবের সব সওয়াব একত্রে লিখে রেখেছেন।" (সহিহ মুসলিম, ৬৬৩)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর পথে কষ্ট করে হাঁটার প্রতিটি মুহূর্তই বান্দার জন্য সওয়াবের ভাণ্ডারে জমা হতে থাকে।
কিয়ামতের দিন আলো হয়ে উঠবে মসজিদের পথে চলা
মসজিদের দিকে হাঁটার আরেকটি বড় ফজিলতের কথা রাসুলুল্লাহ (সা.) সুসংবাদ হিসেবে জানিয়েছেন।
হজরত বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
«بَشِّرِ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
অর্থ: "যারা অন্ধকারে (ফজর ও এশার সময়) মসজিদে হেঁটে যায়, তাদের কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও।" (সুনানে আবু দাউদ ৫৬১, সুনানে তিরমিজি ২২৩)
ফজরের ঘুম কিংবা এশার ক্লান্তি উপেক্ষা করে যারা আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন, কিয়ামতের ভয়াবহ অন্ধকারে আল্লাহ তাদের জন্য নূরের ব্যবস্থা করবেন-এটি একজন মুমিনের জন্য কত বড় সৌভাগ্যের সংবাদ!
সাহাবায়ে কেরামের জীবনে মসজিদের প্রতি ভালোবাসা
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিরা মসজিদের সঙ্গে এমনভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন যে, জামাতে উপস্থিত হওয়াকে তারা ঈমানের অন্যতম নিদর্শন মনে করতেন।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন, আমরা দেখেছি, প্রকাশ্য মুনাফিক ছাড়া কেউ জামাতে নামাজ থেকে পিছিয়ে থাকত না। এমনকি কোনো সাহাবি অসুস্থ হলেও দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে মসজিদে এসে কাতারে দাঁড়াতেন।
ইমাম নববী (রহ.) এ বর্ণনার ব্যাখ্যায় বলেন, এটি প্রমাণ করে যে, সালাতের জামাত এবং মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক একজন মুমিনের ঈমানকে জীবন্ত রাখে।
শুধু হাঁটাই নয়, নিয়তও হতে হবে বিশুদ্ধ
ইসলামে কোনো আমলের মূল্য শুধু তার বাহ্যিক রূপে নয়; বরং নিয়তের ওপর নির্ভর করে। কেউ যদি প্রশংসা পাওয়ার জন্য কিংবা মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, তবে সে এই মহান প্রতিদান থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেন, বান্দা যখন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইবাদতের জন্য ঘর থেকে বের হয়, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপ ইবাদতে পরিণত হয়। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য পরিবর্তন হয়ে যায়, তবে আমলের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যায়।
তাই মসজিদের পথে হাঁটার সময় অন্তরে এই অনুভূতি থাকা উচিত-আমি আমার রবের ডাকে সাড়া দিতে যাচ্ছি।
হাঁটার মাধ্যমে গড়ে ওঠে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন
মসজিদে নিয়মিত হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস শুধু ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের চরিত্রও গড়ে তোলে।
যে ব্যক্তি দিনে কয়েকবার মসজিদে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন, তিনি সময়ের মূল্য বুঝতে শেখেন। অলসতা কমে যায়, জীবন হয় আরও গোছানো। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় এবং আল্লাহর ঘরকে কেন্দ্র করে একটি সুন্দর ইসলামি পরিবেশ তৈরি হয়।
অনেক আলেম বলেন, একটি সমাজে মসজিদ যত বেশি প্রাণবন্ত হবে, সেই সমাজে অপরাধ, অশান্তি ও নৈতিক অবক্ষয় তত কমে আসবে। কারণ মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়; এটি ঈমান, শিক্ষা, ভ্রাতৃত্ব ও নৈতিকতার কেন্দ্র।
আজকের জীবনে এই সুন্নাহ কতটা প্রয়োজন
বর্তমান সময়ে মানুষ স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে। কিন্তু প্রতিদিন কয়েকবার মসজিদে হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস এমন একটি সুন্নাহ, যেখানে দুনিয়ার উপকারও রয়েছে, আবার আখিরাতের অগণিত প্রতিদানও রয়েছে।
যদি মসজিদ কাছাকাছি থাকে এবং শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও আমরা সব সময় অযথা যানবাহনের ওপর নির্ভর করি, তাহলে এই মহান সওয়াব থেকে নিজেদেরই বঞ্চিত করি। অবশ্য ইসলাম কষ্ট চাপিয়ে দেয় না। অসুস্থতা, বার্ধক্য, দীর্ঘ দূরত্ব বা বিশেষ প্রয়োজন থাকলে যানবাহন ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ। তবে সুযোগ থাকলে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সুন্নাহকে জীবিত রাখা একজন মুমিনের জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়।
আজ আমরা সুস্থ থাকার জন্য নানা উপায় খুঁজি, অথচ আল্লাহর রাসুল (সা.) এমন একটি পথ দেখিয়ে গেছেন, যা একই সঙ্গে শরীর, মন ও আত্মাকে সুস্থ রাখে। মসজিদের পথে হাঁটা কেবল একটি দৈনন্দিন অভ্যাস নয়; এটি আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া, গুনাহ মাফের সুযোগ গ্রহণ করা এবং জান্নাতের পথে একেকটি ধাপ এগিয়ে যাওয়ার নাম।
মনে রাখতে হবে, হয়তো আমাদের চোখে এটি কয়েক মিনিটের হাঁটা; কিন্তু আল্লাহর কাছে এটি হতে পারে এমন একটি আমল, যার কারণে অসংখ্য গুনাহ ক্ষমা হয়ে যাবে, মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং কিয়ামতের দিন নূরের ব্যবস্থা হবে।
তাই আসুন, অযথা যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে-বিশেষ করে ফজর, মাগরিব ও এশার নামাজে-সুযোগ থাকলে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলি। হয়তো আমাদের অগণিত পদচিহ্নই কিয়ামতের দিন আল্লাহর রহমত লাভের সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর ঘরের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলার, নিয়মিত জামাতে সালাত আদায় করার এবং মসজিদের পথে প্রতিটি পদক্ষেপকে নাজাতের মাধ্যম বানানোর তৌফিক দান করুন। আমিন।