মিল্টন-মামুন আতঙ্কে জামায়াত আমির!

মিল্টন-মামুন আতঙ্কে জামায়াত আমির!
  • Author, জাগরণ ডেস্ক
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড (মিরপুর-কাফরুল) যা তালতলা, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুল, মিরপুর ১০, মিরপুর ১৪, কচুক্ষেত ও পূর্ব সেনপাড়া নিয়ে ঢাকা ১৫ আসন গঠিত।এই আসনটি এবার আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আছে।এই আসন থেকে লড়াই করছেন ১১ দলীয় জোটের নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা.শফিকুর রহমান।একই আসন থেকে আরো প্রার্থীতা করছেন ৫ জন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান,গণফোরামের এ. কে. এম. শফিকুল ইসলাম, জনতার দলের খান শোয়েব আমান উল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মো. আশফাকুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির মো. সামসুল হক।

স্থানীয় ভোটাররা এই আসনে দুজন প্রার্থীকেই এগিয়ে রাখছেন জয়ী হওয়ার দৌড়ে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমানকেই। দুজন প্রার্থীর রাজনৈতিক দীর্ঘসূত্রিতা যাচাই করে যেসকল তথ্য উঠে এসেছে সেগুলো বিশ্লেষণ করেছে জাগরণ নিউজের নির্বাচন পর্যালোচনা টিম। ডা.শফিকুর রহমান প্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ২০০১ সালে। মৌলভীবাজার-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম থেকে সেবার অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন।সেবার তিনি ১২৪১৫ ভোট পান। এরপর ২০১৮ সালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শিষ প্রতীকে নির্বাচন করেন ঢাকা-১৫ আসন থেকে। ৩৯০৭১ ভোট পেয়ে এবারো পরাজিত হন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে এবার তিনি প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনের। ২০০১ সালের নির্বাচনে ৪১.৫ শতাংশ ভোট পেলেও ২০১৮ সালে জামানাত বাজেয়াপ্ত হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান ঢাকা মহানগর যুবদলের পরিচিত মুখ।মিরপুর এলাকাতেই জন্মগ্রহণ করা বিএনপির এই প্রার্থী স্থানীয় হওয়ায় ভোটারদের সাথে আন্তরিকতা ও পরিচয়ের ঘাটতি কম বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। শফিকুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদল থেকে।ছাত্রদল থেকে যুবদলের জনপ্রিয় মুখ হয়ে উঠাকেই ভোটাররা পছন্দ তালিকায় রাখছেন বলে মনে করেন ঢাকা ১৫ আসন সংশ্লিষ্ট বিএনপির নেতা কর্মীরা। ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন দুজন হেভিওয়েট প্রার্থী। তাদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম মিল্টন ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বর্তমান সদস্য ও যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান ছিলেন এগিয়ে।শফিকুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরে ঐ এলাকার বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মনে করছিলেন মামুন হাসানের সহযোগিতা না পাওয়াটা মিল্টনের জন্য কিছুটা আশঙ্কা তৈরি করবে পরাজয়ের। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে মিল্টন ও মামুনের এক হয়ে কাজ করার অপেক্ষায় ছিলেন নেতাকর্মীরা।সকলের জল্পনা কল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে একসাথে নির্বাচনের মাঠে কাজ করছেন মিল্টন মামুন। নির্বাচনী এলাকায় দেখা গেছে একসাথে এই দুজন ভোট চাচ্ছেন। এক হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় একাধিক ফুটেজ এসেছে জাগরণ নিউজের কাছে।মামুন হাসান মিরপুর এলাকার স্থানীয় হওয়ায় তার জনপ্রিয়তা এই আসনে বিএনপির জন্য কাজে আসবে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় যে বিভাজন তৈরি হয়েছিলো নেতাকর্মী ও ভোটাররা মনে করছেন এখানে আর কোনো বিভাজন নেই।অতীতে বিএনপি এই আসনে টানা দুবার জয়লাভ করে।সেই হিসেবে বিএনপিকেই এগিয়ে রাখছেন এই এলাকার ভোটাররা।

মামুন হাসান ও মিল্টনকে নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা আশিকুর রহমান মন্তব্য করেন, "এক ছবিতে ম্যাজিক এবং অঘটন দুইটাই আছে। আমাদের জন্য ম্যাজিক আর বিরোধী শিবিরের জন্য অঘটন। আগেই বলেছি মামুন ভাই ঢাকা-১৫ এর যোগ্য প্রার্থী ছিলো। ঢাকা-১৫ এর যে দিক দিয়ে উনি যান ঐদিকের ধুলাবালিও চিনতে পারে এটা মামুন হাসান ভাই। এখন ঢাকা-১৫ তে সরাসরি নেমেছেন মামুন ভাই। যেটা আমাদের জন্য পজিটিভ। মিল্টন ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে মামুন ভাই কোন এক যায়গায় দাড়ালে সবাই ধানের শীষে ভোট দিতে বাধ্য। একটা জিনিস খুবই ভালো লাগে, দলের প্রতি কতোটা ডেডিকেটেড হলে মান, অভিমান, মনকষ্ট ভুলে এভাবে নগ্নভাবে দলকে ভালোবাসে যায়। জামায়াতের আমির সারা দেশে না ঘুরে নিজের আসনে ঘুরেন। ভোট ট্রান্সফার দিয়ে হয় তো জামানত বাঁচাতে পারবেন কিন্তু মামুন- মিল্টনের সামনে জেতার আশা করা মানে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন।"

নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে মামুন হাসান লিখেন, “আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ ক্ষমতার আগে জনতা, সবার আগে বাংলাদেশ” জাগরণ নিউজের নির্বাচন পর্যালোচনা কমিটি ঢাকা-১৫ আসনে ভোটারদের মতামত গ্রহণ করেন।

 

কাফরুল এলাকার ভোটার সাইদুদ্দিন আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেন, ভোটটা এবার দাড়িপাল্লাতেই দিবো।ইসলামের পক্ষে ভোট দিবো দাঁড়িপাল্লাতেই দিবো।এতোদিন তো সবাইকে দিলাম এবার ভোটটা জামাতকে দিবো। ভোটার সাইদুদ্দিন গতো ২ নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার আক্ষেপটিও জানান জাগরণ নিউজকে।

শেওড়াপাড়া এলাকার ভোটার রফিকুল ইসলামকে পছন্দের প্রার্থীর বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমরা এই এলাকার স্থানীয় মানুষ, আমাদের জন্ম মৃত্যু এখানেই।আমাদের স্থানীয় ছেলেকেই ভোট দিবো।বিএনপির শফিকুলের জন্ম এখানেই।শফিকুল আমাদের চোখের সামনেই এতোদিন রাজনীতি করেছে, একবার এলাকার ছেলেকে সুযোগ দিলে এলাকার ছেলেই এলাকার উন্নয়ন করবে। বাহিরের কেও সহজে এলাকার মানুষের কষ্ট বুঝবেনা। যেমন জামায়াতের আমীর আমাদের এলাকার মানুষ না, তিনি আমাদের কষ্ট বুঝবেন না।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


 

 

 

 

 

 

 


 


সম্পর্কিত নিউজ