জামায়াতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভয়ঙ্কর অশনি সংকেত

জামায়াতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভয়ঙ্কর অশনি সংকেত
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি ও কবি ফরহাদ মজহার জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং দেশের বর্তমান অবকাঠামোগত সংকট নিয়ে তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

‘গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ’ আয়োজিত এই সভায় তিনি ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি জামাতের সমালোচনা করে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত যোগাযোগ ও সমপর্ক বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘অশনি সংকেত’


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্র টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে। ভবিষ্যতে দলটি ক্ষমতায় এলে তাদের শরীয়াহ নীতি বা মার্কিন স্বার্থের সংঘাত কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে ওয়াশিংটন আগেভাগেই ছক কষছে। ফরহাদ মজহারের মতে, এটি প্রমাণ করে যে দুই পক্ষের মধ্যে একটি গভীর নীতিগত বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, যা ১৭ কোটি মানুষের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি গভীর উদ্ধেগ প্রকাশ করেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য যতটা জোরালো, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে বুদ্ধিজীবী মহলে আলোচনা ততটাই নগণ্য। আমেরিকার সমালোচনা করা হয় না এই দেশে।  এই দ্বৈত মানসিকতা দেশের স্বাধীন সার্বভৌম সত্তার জন্য ক্ষতিকর ও ভুল। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর ইচ্ছাই প্রধান হয়ে উঠছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুদ্ধ নয়, বরং সাধারণ মানুষের ‘ডাল-ভাত’ খেয়ে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রকৃত রাজনীতির লক্ষ্য।

বর্তমানে দেশে বিরাজমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটকে ফরহাদ মজহার ‘রাজনৈতিক ও লুণ্ঠনমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পট করে বলেন, উৎপাদন না করেও বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে টাকা নিচ্ছে, যা এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ডাকাতি। নদী দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে পানির সংকট তৈরি হয়েছে। জনগণের জীবনধারণের মৌলিক উপাদান—খাদ্য, পানি ও জ্বালানির ওপর জনসাধারণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকেই তিনি প্রকৃত রাজনীতি বলে আখ্যা দেন। সবার আগে  দেশের জনগণের সুযোগ-সুবিধা।


গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা ও সৈনিকদের মৈত্রীর ওপর ভিত্তি করেই এই পরিবর্তন এসেছে। সৈনিকরা এদেশের কৃষক-শ্রমিকেরই সন্তান, তাই তাদের সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করার যেকোনো চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। নির্বাচনকে কেবল লুটপাটের ভাগ-বাঁটোয়ারার মাধ্যম না করে জনমানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিতের হাতিয়ার করার আহ্বান জানান তিনি।


সম্পর্কিত নিউজ