{{ news.section.title }}
সকাল থেকে ৮ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় যেসব এলাকা
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তন ও লাইন সংস্কার কাজের জন্য আজ সোমবার (১৮ মে) রাজশাহী ও নাটোরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের কাছাকাছি থাকা গাছের ডালপালা কাটার কাজ পরিচালনা করা হবে। এজন্য সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজশাহীর কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
নেসকো জানিয়েছে, কাপাশিয়া ফিডারের আওতাধীন বেশ কিছু এলাকায় এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট হবে। এর মধ্যে রয়েছে কাটাখালী বাজার দক্ষিণ, বেলঘড়িয়া রোড, বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া, সমসাদিপুর, মিরকামারী, কাপাশিয়া পশ্চিমপাড়া ও পাক ইসলামপুর এলাকা। এছাড়া সোর্স থেকে কাপাশিয়া মহানগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ পর্যন্ত পুরো ফিডার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ষা মৌসুম ও ঈদের সময় বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছের ডালপালা পড়ে দুর্ঘটনা কিংবা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঝুঁকি এড়াতেই আগাম এই কাজ করা হচ্ছে। অনেক সময় ঝড়-বৃষ্টির সময় গাছের ডাল বিদ্যুতের তারে পড়ে বড় ধরনের বিভ্রাট সৃষ্টি করে। তাই আগেভাগেই ঝুঁকিপূর্ণ গাছের শাখা-প্রশাখা অপসারণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বাঘা জোনাল অফিসও একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, লাইনের পাশের গাছের ডালপালা কাটার কাজের জন্য চক রাজাপুর অভিযোগ কেন্দ্রের ৩ নম্বর ফিডার 3C-146 এর আওতাধীন কয়েকটি এলাকায় সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এই তালিকায় রয়েছে কালিদাস খালি, দাদপুর, চক রাজাপুর ও পলাশী ফতেপুর এলাকা। ফলে এসব এলাকার বাসিন্দাদের টানা প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে হতে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদ সামনে রেখে এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে দেশজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝুঁকিপূর্ণ লাইন সংস্কারের কাজ চলছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় গাছের ডাল বিদ্যুতের তারের খুব কাছে চলে গেছে, সেসব জায়গা দ্রুত পরিষ্কার করা হচ্ছে।
এদিকে হঠাৎ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার ঘোষণায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা ভোগান্তির শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। অনেকেই আগেভাগে পানি সংরক্ষণ, মোবাইল ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ দিয়ে রাখছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট শিল্পকারখানাগুলোকেও বিকল্প প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত সময় কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ আরও বলছে, এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শেষ হলে ঈদের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমে আসবে এবং গ্রাহকরা আরও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।