{{ news.section.title }}
নতুন পে স্কেলে ৩ ভাতা নিয়ে বড় সুখবর, কারা পাচ্ছেন বেশি সুবিধা?
সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন আশার বার্তা নিয়ে আলোচনায় এসেছে নবম জাতীয় পে স্কেল। প্রাথমিক সুপারিশে মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা, টিফিন ভাতা ও শিক্ষা ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনাও করছে সরকার। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; অর্থনৈতিক সক্ষমতা, রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি ও বাজেট পরিস্থিতি বিবেচনার পরই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।
জানা গেছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন পে স্কেল একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে সরকারি হিসাবের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ কারণে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের আগে পুরো পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তিনটি বিশেষ ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা দেওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। পাশাপাশি সন্তানদের জন্য মাসিক শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে দুটি পদ্ধতি বিবেচনায় রয়েছে। একটি হলো তিন ধাপে বাস্তবায়ন, অন্যটি হলো পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি। প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। পরবর্তী বছরে বাকি অংশ সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। আর বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা তৃতীয় বছরে দুই ধাপে কার্যকর করা হতে পারে।
নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আয় ও সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এ জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটি চূড়ান্ত সুপারিশ দিলে তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতেই সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে পারে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতেই প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বাকি অর্থ ব্যয় হবে পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য। আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য বছরে প্রায় ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফলে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের নিয়মিত ব্যয় আরও বাড়বে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বেতন বৃদ্ধি সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ালেও বাজেট ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব আহরণের ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে।
নবম পে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতেও ২০টি গ্রেড রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ ধরা হয়েছে, যা বিদ্যমান ১:৯ দশমিক ৪ অনুপাতের তুলনায় কম। এর ফলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সে সময় প্রথমে মূল বেতন কার্যকর করা হয় এবং পরের বছর বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয় করা হয়। এবারও একই ধরনের ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে একদিকে চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের প্রত্যাশা আংশিক পূরণ হবে, অন্যদিকে সরকারের আর্থিক চাপও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।