ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরা, মামলা থেকে বাঁচার ৫ উপায়

ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরা, মামলা থেকে বাঁচার ৫ উপায়
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী এআই জেনারেটেড ছবি

ঢাকার প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা। নতুন এই স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলেই ক্যামেরায় ধরা পড়ছে সংশ্লিষ্ট যানবাহন। এরপর যানবাহনের নম্বরপ্লেট শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা তৈরি করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে অটো জেনারেটেড মামলা দেওয়া শুরু করেছে। ডিএমপির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট কমানো এবং সড়কে আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর করতেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর বেশ কয়েকটি ব্যস্ত সিগন্যাল পয়েন্টে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর মধ্যে শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি ও এয়ারপোর্ট রোড করিডোরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রয়েছে। বাংলামোটর, সোনারগাঁও মোড়, কারওয়ান বাজার ও বিজয় সরণির মতো ব্যস্ত মোড়গুলোতেও এই ক্যামেরা যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ করছে।

 

এই ব্যবস্থায় মূলত পাঁচ ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন বেশি নজরে রাখা হচ্ছে-লাল সংকেত অমান্য করা, স্টপ লাইনের বাইরে গাড়ি থামানো, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অবৈধভাবে পার্কিং করা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো–নামানো। পাশাপাশি কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নম্বরপ্লেট স্ক্যানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লেন বাধাগ্রস্ত করা, সিগন্যাল অমান্য এবং মোটরসাইকেলচালকদের হেলমেট-সংক্রান্ত লঙ্ঘনও শনাক্ত করা হচ্ছে।

 

কোনো যানবাহন আইন ভঙ্গ করলে ক্যামেরা সেটির ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ করে। পরে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে মামলা তৈরি হয়। মামলার নোটিশ যানবাহনের মালিক বা চালকের নিবন্ধিত ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে মালিকের মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তার মাধ্যমেও তথ্য জানানো হচ্ছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।

 

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, চালুর প্রথম চার দিনেই এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ২০০ থেকে ৩০০টি মামলা রেকর্ড হয়েছে। ভবিষ্যতে রাজধানীর আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ছয় মাসে ৫০০টি এআই ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ডিএমপি।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এআই ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে সড়কে তাৎক্ষণিক মানবনির্ভর নজরদারির সীমাবদ্ধতা কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে চালকের অজান্তেও আইন ভঙ্গের প্রমাণ সংরক্ষিত থাকায় ট্রাফিক আইন প্রয়োগ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ব্যবস্থাকে সফল করতে হলে যানবাহনের নিবন্ধন ডাটাবেস হালনাগাদ রাখা, ভুয়া নম্বরপ্লেট ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জরিমানা প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি।

 

ট্রাফিক বিভাগ চালকদের সিগন্যাল মেনে চলা, স্টপ লাইনের আগে গাড়ি থামানো, নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠানো–নামানো, অবৈধ পার্কিং না করা এবং উল্টো পথে চলাচল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। নতুন প্রযুক্তির লক্ষ্য শুধু মামলা দেওয়া নয়, বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।


সম্পর্কিত নিউজ