{{ news.section.title }}
ঈদুল আজহা সামনে রেখে নতুন সিদ্ধান্ত, দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশের দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১২ মে থেকে ঈদুল আজহা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ঈদ কেনাকাটার চাপ সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার ৭ মে এক ভিডিও বার্তায় হেলাল উদ্দিন জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। তবে সরকার রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে ঈদের আগে ক্রেতারা আগের তুলনায় বেশি সময় নিয়ে কেনাকাটা করতে পারবেন।
নতুন সময়সূচি কার্যকর হবে আগামী মঙ্গলবার, ১২ মে থেকে। এই সময়সূচি ঈদুল আজহা পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর আগে দোকানপাট ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার নিয়ম ছিল। ঈদ ঘনিয়ে আসায় বাজারে ক্রেতার চাপ বাড়তে পারে, এমন বাস্তবতা বিবেচনায় সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল দোকান মালিক সমিতি।
তবে সময় বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। দোকান মালিক সমিতির সভাপতি জানান, দোকানপাট ও বিপণিবিতানে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বা অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা গেলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি মানতে হবে।
ঈদের আগে দেশের বড় শহরগুলোতে বিপণিবিতান, শপিং মল ও মার্কেটে সাধারণত ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। বিশেষ করে পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, গৃহস্থালি পণ্য ও কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রীর দোকানে বিক্রি বাড়ে। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হলে অনেক ক্রেতা অফিস বা কাজ শেষে কেনাকাটার পর্যাপ্ত সময় পান না। নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদের আগে বিক্রির বড় অংশ নির্ভর করে শেষ সময়ের কেনাকাটার ওপর। অনেক পরিবার বেতন, বোনাস বা ঈদ প্রস্তুতির সময়সূচি অনুযায়ী শেষ সপ্তাহে কেনাকাটা করেন। তাই রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সুযোগ ব্যবসায়ীদের বিক্রি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে ক্রেতার ভিড় একসঙ্গে জমে না গিয়ে তুলনামূলকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগও তৈরি হবে।
তবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের শর্তটি গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে। এর মধ্যে বাজার ও বিপণিবিতানে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়তে পারে। তাই সরকার সময় বাড়ানোর অনুমতি দিলেও অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার নির্দেশনা দিয়েছে।
সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে আগামী ১২ মে থেকে ঈদের আগ পর্যন্ত দেশের দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ফলে ঈদ কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা বাড়তি সময় পাবেন, আর ব্যবসায়ীরা ঈদ মৌসুমের বিক্রিতে কিছুটা বাড়তি সুযোগ পাবেন।