{{ news.section.title }}
ভারতে তেল শোধনের পরিকল্পনা সরকারের!
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ভারতের সঙ্গে নতুন ধরনের সহযোগিতার পথে হাঁটতে চাইছে বাংলাদেশ। সরকার ভারতের শোধনাগারে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার একটি জিটুজি বা সরকার-টু-সরকার প্রস্তাব দিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, আমদানি উৎস ও পরিশোধন ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহকে আরও স্থিতিশীল করা। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তবে এখনো ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে ‘জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত একটি চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে ভারতের সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির একটি সূত্র জানায়, চিঠিটি পররাষ্ট্র সচিবের কাছে পাঠানো হয় এবং দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালককেও অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন কূটনৈতিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ভারতের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এই প্রস্তাব এসেছে এমন সময়ে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করছে। বাংলাদেশ বর্তমানে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি-দুই ক্ষেত্রেই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে কোনো একটি অঞ্চল বা রুটে সংকট তৈরি হলে দ্রুত অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে চাপ দেখা দেয়।
টোলিং মডেলে তেল পরিশোধনের ভাবনা
প্রস্তাবিত উদ্যোগের মূল ভিত্তি হলো একটি ‘টোলিং মডেল’। এই ব্যবস্থায় বাংলাদেশ নিজস্ব মালিকানাধীন বা অর্থায়িত অপরিশোধিত তেল ভারতের শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশ পরিশোধন ফি, পরিবহন ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক খরচ পরিশোধ করবে। অর্থাৎ, অপরিশোধিত তেল বাংলাদেশের হলেও তা প্রক্রিয়াজাত হবে ভারতের নির্ধারিত রিফাইনারিতে; পরে পরিশোধিত জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হবে।
এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে মনোনীত করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলে বিপিসিই কারিগরি, বাণিজ্যিক ও অপারেশনাল বিষয়গুলো নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় এই প্রস্তাবটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কেন ভারতের দিকে তাকাচ্ছে বাংলাদেশ
কর্মকর্তাদের মতে, ভারতের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ তেল পরিশোধন সক্ষমতার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। দেশে বর্তমানে মূলত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ওপর নির্ভর করে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়। কিন্তু আকার, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ক্ষমতার দিক থেকে এই সক্ষমতা সীমিত।
চট্টগ্রামে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি বর্তমানে বছরে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারে। এই রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের Arabian Light Crude এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের Murban Crude প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এখান থেকে পেট্রল, অকটেন, ডিজেলসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়।
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, কৃষি, শিল্প এবং দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়ছে। এই চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে দেশীয় পরিশোধন সক্ষমতার ব্যবধানও বড় হচ্ছে। ফলে শুধু বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ রিফাইনারির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ অবস্থায় ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত টোলিং ব্যবস্থা দেশীয় শোধনাগার সম্প্রসারণে তাৎক্ষণিক বড় বিনিয়োগ ছাড়াই সরবরাহ ব্যবস্থাকে বহুমুখী করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের রয়েছে বিস্তৃত, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এবং বিভিন্ন উৎসের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা। এ কারণেই কর্মকর্তারা ভারতকে স্বাভাবিক আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছেন।
কীভাবে কাজ করবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থা
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ভারতের নির্ধারিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো বিপিসির সঙ্গে সমন্বয় করে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ বা প্রক্রিয়াকরণে যুক্ত হতে পারে। বাংলাদেশ নিজে তেল সংগ্রহ করতে পারে অথবা অর্থায়নের মাধ্যমে ক্রুডের মালিকানা ধরে রেখে তা ভারতীয় রিফাইনারিতে পাঠাতে পারে। পরিশোধনের পর জ্বালানি পণ্য বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে।
অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ, টোলিং চার্জ, পরিবহন ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট সব লজিস্টিক খরচ বহন করবে বিপিসি। কর্মকর্তারা মনে করছেন, এতে ভারতের পরিশোধন সক্ষমতা ব্যবহার করে বাংলাদেশ বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহের সুযোগ পাবে। ফলে এক বা দুই উৎসের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ইতোমধ্যে যথাযথ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও কোম্পানির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে এবং কারিগরি ও বাণিজ্যিক আলোচনা শুরু করার জন্য কূটনৈতিক সহায়তা চেয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি কেবল বাণিজ্যিক চুক্তি নয়; এর সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয়, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ও জড়িত।
রাশিয়ান ক্রুড ও বিকল্প উৎস অনুসন্ধান
এর আগে বাংলাদেশ ভারতীয় রিফাইনারিতে রাশিয়ান ক্রুড প্রক্রিয়াজাত করে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি আনার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে বলে সরকারি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই উদ্যোগকে কর্মকর্তারা জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্যকরণের জরুরি কৌশল হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ক্রুড সংযুক্ত আরব আমিরাতের শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশের ২০২৬ সালের জ্বালানি আমদানি পরিকল্পনায়ও বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের বিষয় দেখা যাচ্ছে। বিপিসির অনুমোদিত আমদানি পরিকল্পনায় ২০২৬ সালে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি থেকে ৭ লাখ টন Murban crude আমদানির কথা রয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪ লাখ টন এবং জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ টন সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ভারত থেকেও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিচ্ছে। ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড বাংলাদেশে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুমালিগড় রিফাইনারির সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এর সক্ষমতা ৬০ হাজার ব্যারেল থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল দৈনিক পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং রিফাইনারিটি বাংলাদেশে বছরে ১০ লাখ টন সক্ষমতার পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করে।
সম্ভাব্য সুবিধা: সরবরাহ নিরাপত্তা ও ব্যয় সাশ্রয়
কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতের সঙ্গে টোলিং ব্যবস্থায় গেলে স্পট মার্কেটের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক বাধার প্রভাব কিছুটা কমানো যেতে পারে। বৈশ্বিক বাজারে যখন দাম দ্রুত ওঠানামা করে, তখন দীর্ঘমেয়াদি বা কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা সরবরাহ নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
এ ধরনের ব্যবস্থা প্রতিযোগিতামূলক দামে পরিশোধিত জ্বালানি পাওয়ার সুযোগও তৈরি করতে পারে। ভারতের বড় পরিসরের রিফাইনারি অবকাঠামো এবং বিভিন্ন উৎস থেকে ক্রুড সংগ্রহের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক শর্তে জ্বালানি পেতে পারে-এমন ধারণা রয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে।
আরেকটি বড় সুবিধা হলো, দেশীয় শোধনাগার সম্প্রসারণের মতো বড় বিনিয়োগ ও দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ প্রকল্পের আগেই দ্রুত বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ, এটি স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে একটি ‘ব্রিজিং অ্যারেঞ্জমেন্ট’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
ঝুঁকিও কম নয়
তবে এই প্রস্তাব নিয়ে ঝুঁকির কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদেশি অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। একটি মাত্র আঞ্চলিক অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সময় নতুন ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা, টোলিং ফি, পরিবহন ব্যয় এবং রিফাইনারি চার্জ নিয়ে শক্তিশালী দরকষাকষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। চুক্তির শর্ত যদি বাংলাদেশের পক্ষে যথেষ্ট অনুকূল না হয়, তাহলে প্রত্যাশিত ব্যয় সাশ্রয় নাও হতে পারে।
আরও একটি উদ্বেগ হলো, এ ধরনের বিদেশভিত্তিক পরিশোধন ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডসহ দেশীয় শোধনাগার সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বিলম্বিত করতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি রিফাইনারি ব্যবহারের সুবিধা থাকলেও তা কখনোই দেশীয় পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প হতে পারে না।
পরিশোধন সেবা ও পরিবহন খরচ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ডলার সংকট বা বৈদেশিক লেনদেনের চাপের সময়ে এমন ব্যয় আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা
সরকার দেশীয় পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এর বার্ষিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখতে পারে বলে জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা আশা করছেন।
তবে অর্থায়ন সংকটের কারণে এসব প্রকল্পের অগ্রগতি ধীরগতির। বড় আকারের রিফাইনারি নির্মাণ বা আধুনিকায়নে বিপুল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, সময় এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত টোলিং ব্যবস্থা একদিকে তাৎক্ষণিক সরবরাহ ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ, অন্যদিকে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর সময় কেনার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তাৎক্ষণিক প্রয়োজন ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য-দুইয়ের ভারসাম্য জরুরি
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত তেল পরিশোধন ব্যবস্থা স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে কার্যকর সমাধান হতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ রিফাইনারি সীমাবদ্ধতার সময়ে এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় সহায়ক হতে পারে।
তবে এটিকে দেশীয় পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং আঞ্চলিক সহযোগিতা, উৎস বৈচিত্র্যকরণ, জ্বালানি আমদানির বিকল্প রুট এবং স্থানীয় অবকাঠামোতে দ্রুত বিনিয়োগ-সবকিছুর সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল প্রয়োজন।
তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদে ভারতীয় রিফাইনারি ব্যবহারের মতো ব্যবস্থা সরবরাহে স্বস্তি দিতে পারে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের নিজের রিফাইনারি সক্ষমতা, স্টোরেজ ব্যবস্থা, পাইপলাইন, আমদানি উৎস এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতেই হবে। অতিরিক্ত বিদেশ নির্ভরতা ভবিষ্যতে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।