ভূমিকম্প থেমেছে কিন্তু থামেনি মাথা ঘোরা? আতঙ্কিত না হয়ে যা করা জরুরি

ভূমিকম্প থেমেছে কিন্তু থামেনি মাথা ঘোরা? আতঙ্কিত না হয়ে যা করা জরুরি

মাটির কম্পন থেমে গেছে বেশ কিছুক্ষণ আগে। সিলিং ফ্যানটাও এখন স্থির। কিন্তু আপনার মনে হচ্ছে, সবকিছু এখনও দুলছে! আপনি কি এখনও ভূমিকম্প অনুভব করছেন, নাকি এটি আপনার মস্তিষ্কেরই কোনো বিভ্রম! সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, বড় কোনো ভূমিকম্পের পর বিশাল এক জনগোষ্ঠী

পোস্ট-আর্থকোয়েক ডিজিনেস বা ভূমিকম্প-পরবর্তী মাথা ঘোরা সমস্যায় ভোগেন। অনেকে একে ভয় বলে উড়িয়ে দিলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন ধরনের  কথা। এটি কেবল আতঙ্ক নয়, বরং আপনার শরীরের ভারসাম্য রক্ষার তিনটি প্রধান ইঞ্জিনের মিসফায়ার বা সমন্বয়হীনতা।

এখনও মাটি কাঁপছে, কেন মনে হয়?
আমাদের কান, চোখ এবং পেশি মিলে মস্তিষ্ককে জানায় আমরা সোজা দাঁড়িয়ে আছি কি না।ভূমিকম্পের সময় এই ব্যবস্থায় হঠাৎ ধকল আসে।

দেখা দেয়-
⇨ ভেস্টিবুলার বিভ্রান্তি: কানের ভেতরের তরল, যা ভারসাম্য বজায় রাখে, তা দুলতে শুরু করে। কম্পন থামার পরও সেই তরল স্থির হতে সময় নেয়।

⇨ সি-সিকনেস ইফেক্ট: একে অনেকে মাল ডি ডাবার্কমেন্ট বলেন, যেমনটা হয় জাহাজ থেকে নামার পর। সমুদ্রের দুলুনি থেমে গেলেও মস্তিষ্ক মনে করে আপনি এখনও পানিতেই আছেন।

⇨ ফ্যান্টম কোয়েক ও মানসিক ট্রমা: অনেক সময় কোনো কম্পন ছাড়াই মনে হয় ঘর কাঁপছে। একে  ফ্যান্টম কোয়েক বা ছায়া কম্পন বলে। এটি মূলত একটি সাইকো-সোমাটিক প্রতিক্রিয়া। মস্তিষ্ক যখন অতিরিক্ত সতর্ক বা হাইপার-অ্যালার্ট অবস্থায় থাকে, তখন পাশের বাসার এসির কম্পন বা দূর থেকে আসা ট্রাকের শব্দকেও সে বড় ভূমিকম্প মনে করে ভুল সংকেত পাঠাতে থাকে।

রেড ফ্ল্যাগ: কখন সাবধান হবেন?
সব মাথা ঘোরাই সাধারণ নয়। যদি আপনার বা আপনার পরিচিত কারো মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে সেটিকে সিরিয়াসভাবে নিতে হবে:

লক্ষণ: 
☞ কথা জড়িয়ে যাওয়া। এটি স্নায়বিক বা নিউরোলজিক্যাল সমস্যা হতে পারে। এরকম হলে জরুরি নিউরো চেকআপ  করানো উচিত।

☞ হাত-পা অবশ ভাব। এরকমটা হতে পারে রক্তচাপের তীব্র ওঠানামার কারণে। এমতাবস্থায় করণীয় হলো দ্রুত প্রেশার মাপা ও ডাক্তার দেখানো।

☞ অবিরাম বমি বা অচেতনতা। মাথায় আঘাত বা ইন্টারনাল স্ট্রেস এর কারণে হতে পারে। এরকম হলে  দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা উত্তম।

☞ দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া। এমনটা হতে পারে মস্তিষ্কের ভারসাম্য কেন্দ্রে চাপের ফলে। এমন হলে চক্ষু ও স্নায়ু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

ঝুঁকি কাদের বেশি?
পরিসংখ্যান বলছে, যারা আগে থেকেই মাইগ্রেন, উচ্চ রক্তচাপ বা অ্যাঙ্কজাইটি ডিসঅর্ডারে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। এছাড়া বয়স্কদের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ফিরে পেতে তরুণদের চেয়ে বেশি সময় লাগে।

যা করবেন এবং করবেন না:
হঠাৎ পৃথিবী দুলছে মনে হলে ঘাবড়ে যাবেন না। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

☞ স্থির হোন: দ্রুত বসে পড়ুন। মেঝেতে পা শক্ত করে চেপে ধরুন যাতে মস্তিষ্ক অনুভব করতে পারে আপনি স্থির সমতলে আছেন।

☞ পয়েন্ট ফোকাস: দেয়ালের কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে ৩০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের মাধ্যমে মস্তিষ্ক পুনরায় ভারসাম্য সমন্বয় করতে পারে।

☞ পানি ও গভীর শ্বাস: প্রচুর পানি পান করুন। পানিশূন্যতা মাথা ঘোরাকে ১০ গুণ বাড়িয়ে দেয়।

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কিন্তু এর পরবর্তী শারীরিক অস্বস্তি একটি চিকিৎসাগত অবস্থা। একে কেবল মনের ভয় বলে চেপে রাখবেন না। যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আপনার পৃথিবী দুলতে থাকে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।


সম্পর্কিত নিউজ