{{ news.section.title }}
দামি গিফট নয়, এক জোড়া বই-ই বদলে দিতে পারে আপনার সম্পর্ক!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
সম্পর্কের রসায়ন জমাতে আমরা কত কিছুই না করে থাকি! ক্যান্ডেল লাইট ডিনার কিংবা পাহাড়ে মেঘ ছুঁতে যাওয়া বা প্রিয় সিনেমা দেখা আরও কত কি! কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কোলাহলমুক্ত এক বিকেলে পাশাপাশি বসে বই পড়ার চেয়ে প্রশান্তিময় আর কী হতে পারে! শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও, মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, একসাথে বই পড়া বা শেয়ারড রিডিং দম্পতি বা প্রিয়জনদের মধ্যে এমন এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন তৈরি করে, যা অনেক দামি উপহারও পারে না। এটি কেবল সময় কাটানো নয়, বরং দুটি মনের একই সমান্তরালে পথচলা।
মনস্তত্ত্বের দৃষ্টিতে, যখন দু’জন মানুষ একই গল্পের চরিত্রগুলো নিয়ে ভাবেন বা একই তথ্যের ভেতর দিয়ে যান, তখন তাদের মস্তিষ্কে এক ধরনের ইমোশনাল সিনক্রোনাইজেশন বা অনুভূতির সমন্বয় ঘটতে শুরু করে। বইয়ের প্রতিটি পাতা উল্টানোর সাথে সাথে তারা শব্দ পড়ার পাশাপাশি, একে অপরের কল্পনা আর চিন্তার জগতকেও স্পর্শ করেন। এটি একে অপরের রুচি, মূল্যবোধ এবং জীবনদর্শন বোঝার এক স্বচ্ছ আয়না হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে, কোনো তর্ক-বিতর্ক ছাড়াই একটি কাল্পনিক পৃথিবীর ভেতর দিয়ে হাঁটা দু’জনের মধ্যে সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে। ডিজিটাল স্ক্রিনের নীল আলোয় যখন আমরা ক্রমশ একা হয়ে পড়ছি, তখন প্রিয় মানুষের সাথে বইয়ের পাতায় ডুব দেওয়া হতে পারে সম্পর্কের এক নতুন প্রাণভোমরা। ভালোবাসার এই শান্ত অথচ শক্তিশালী প্রকাশের গল্প নিয়েই আমাদের আজকের এ আয়োজন!
একই আবেগ একসাথে অনুভব করা হয়!
একটি গল্পে আনন্দ, দুঃখ, টানাপোড়েন, বিস্ময় সবই থাকে। যখন দু’জন মানুষ একই চরিত্রের সুখে হাসেন, দুঃখে কষ্ট পান, বা কোনো সিদ্ধান্তে অবাক হন, তখন তারা একই আবেগগত ঢেউয়ের মাঝে থাকেন। মনোবিজ্ঞানে এটিকে বলা হয় shared emotional experience, যা মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে সহায়তা করে।
গভীর কথোপকথনের স্বাভাবিক সূত্র তৈরি হয়!
বই এমন বিষয় সামনে আনে, যা নিয়ে সাধারণত মানুষ কথা বলতে পছন্দ করেন না। গল্পের চরিত্র বা ঘটনার সূত্র ধরে দু’জন মানুষ নিজেদের চিন্তা, বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন সহজেই। এতে সম্পর্কের ভেতরে গভীর আলাপের পথ তৈরি হয়।
একই কল্পনার জগৎ ভাগ করে নেওয়া যায়!
বই পড়ার সময় প্রত্যেকে নিজের মতো করে দৃশ্য কল্পনা করেন। পরে সেই কল্পনা নিয়ে কথা বললে দেখা যায়, দু’জনের মানসিক ছবিগুলো কোথাও মিলছে, কোথাও বা আবার মিলছে না। এই বিনিময় দু’জনের চিন্তার ধরন বুঝতে সাহায্য করে, যা পারস্পরিক বোঝাপড়াও বৃদ্ধি করে।
নীরবতার মধ্যেও সংযোগ থাকে!
সব সংযোগ কথার মাধ্যমে হয় না। পাশাপাশি বসে, নিজ নিজ পাতা উল্টে পড়ার নীরব মুহূর্তও অনেকসময় মানসিক নিরাপত্তা তৈরি করে।
সহানুভূতি বাড়ে!
গল্পের চরিত্রের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করতে করতে মানুষের সহানুভূতি বাড়ে। যখন দু’জন মিলে এমন গল্প পড়েন, তখন একে অপরের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতাও বাড়তে পারে।
ডিজিটাল বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়!
বই পড়ার সময় মোবাইল, নোটিফিকেশন, সামাজিক মাধ্যম থেকে স্বাভাবিকভাবেই দূরে থাকা যায়। ফলে মনোযোগ একে অপরের উপস্থিতি ও আলোচনায় থাকে, যা মানসম্পন্ন সময় তৈরি করে।
যৌথ স্মৃতি তৈরি হয়!
কোনো বইয়ের চরিত্র, উক্তি বা দৃশ্য পরে সম্পর্কের ভেতরে ব্যক্তিগত রেফারেন্স হয়ে দাঁড়ায়। এগুলো সম্পর্কের নিজস্ব ভাষা তৈরি করে, যা দু’জনের বন্ধনকে আলাদা মাত্রা দেয়।
একসাথে বই পড়া সম্পর্কের জন্য কোনো নাটকীয় কাজ নয়, বরং ধীরে ধীরে, গভীরভাবে দুই মনকে কাছাকাছি আনার একটি প্রক্রিয়া। একই গল্পে ডুবে থাকা, একই আবেগ অনুভব করা, আর সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলাই তৈরি করে বোঝাপড়া, সহানুভূতি ও মানসিক ঘনিষ্ঠতা।