ফ্রিজি চুল থেকে মুক্তির উপায়, পার্লারে না গিয়েও চুল হবে রেশমের মতো!

ফ্রিজি চুল থেকে মুক্তির উপায়, পার্লারে না গিয়েও চুল হবে রেশমের মতো!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

আকাশ মেঘলা হোক কিংবা ভ্যাপসা গরম আয়নার সামনে দাঁড়ালেই আসে একরাশ বিরক্তি। যত্ন করে চুল আঁচড়ানোর কিছুক্ষণ পরেই তা আবার ফুলে-ফেঁপে অবাধ্য হয়ে ওঠে। চুলের এই খাড়া খাড়া এবং রুক্ষ ভাবকেই বলা হয় ফ্রিজ (Frizz)। বিশেষ করে উপকূলীয় আর্দ্রতা বা বর্ষার দিনে এই সমস্যা যেন এক চিরস্থায়ী যন্ত্রণায় পরিণত হয়। কিন্তু জানেন কি কেন চুলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্রোহ শুরু হয়?

এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের চুলের আণুবীক্ষণিক গঠনে। ​বিজ্ঞান বলছে, চুলের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তরকে বলা হয় কিউটিকল। যখন বাতাসে আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়, তখন শুষ্ক চুলের কিউটিকলগুলো সেই আর্দ্রতা শুষে নেওয়ার জন্য ফুলে ওঠে। এর ফলে চুলের ভেতরের তন্তুগুলো অসমভাবে স্ফীত হয় এবং চুল তার মসৃণতা হারিয়ে রুক্ষ ও উড়ন্ত দেখায়। সহজ কথায়, আমাদের চুল যখন তৃষ্ণার্ত থাকে, তখনই সে বাতাস থেকে পানি টেনে নিতে চায় এবং বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।

​এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কেবল চিরুনি চালানো যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন এমন এক বিশেষ সুরক্ষা কবচ যা বাতাসের বাড়তি পানিকে চুলের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেবে। রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের ওপর একটি পানি প্রতিরোধী স্তর তৈরি করতে পারে এমন প্রাকৃতিক তেলের ব্যবহারই হতে পারে এই সমস্যার মোক্ষম দাওয়াই। অবাধ্য চুলকে বশে আনতে এবং সারাদিন তার রেশমি জেল্লা ধরে রাখতে ফ্রিজ নিয়ন্ত্রণের সঠিক কৌশল জানা এখন যেন সময়ের দাবি।

কেন সব তেল ফ্রিজ কমাতে সমান কার্যকর নয়?
কিছু তেল খুব হালকা, দ্রুত শোষিত হয়। সেগুলো ত্বকের জন্য ভালো হলেও আর্দ্রতা ঠেকাতে অতটা সক্ষম নয়। আবার কিছু তেল চুলের উপরিভাগে থেকে একটি আবরণ তৈরি করে, যা বাতাসের আর্দ্রতা ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। ফ্রিজ কন্ট্রোলে এই দ্বিতীয় ধরনের তেল অধিক কার্যকর।

আর্দ্রতা–প্রতিরোধী যেসব তেল বেশি কার্যকর:
১) নারকেল তেল চুলের প্রোটিনের সঙ্গে ভালো বন্ধন তৈরি করে। কিউটিকলের ফাঁক কমায়। ধোয়ার আগে হালকা ব্যবহার করলে আর্দ্রতা ঢোকা কমে।

২) আর্গান অয়েল, ভিটামিন ই সমৃদ্ধ এবং হালকা হলেও, এটি চুলে কার্যকর সিলিং লেয়ার তৈরি করে। ভেজা চুলে অল্প ব্যবহার করলে ফ্রিজ কমে ও উজ্জ্বলতা বাড়ে।

৩) জোজোবা অয়েল, চুলের স্বাভাবিক সিবামের মতোইআচরণ করে। অতিরিক্ত তেলতেলে না করে কিউটিকল মসৃণ রাখে।

৪) অলিভ অয়েল ঘন তেল, আর্দ্রতা প্রতিরোধে শক্তিশালী। এটি শুষ্ক ও ঘন চুলে বেশি কার্যকর।

৫) বাদাম তেল মাঝারি ঘনত্বের, এবং এটি চুল নরম করে ও আর্দ্র পরিবেশে চুলের উড়ন্ত ভাব কমায়।

৬) গ্রেপসিড অয়েল হালকা, কিন্তু চুলের উপর পাতলা সুরক্ষা স্তর দেয়। ফাইন হেয়ারে ভালো কাজ করে।

কখন এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন?
চুল ধোয়ার পর চুল যখন হালকা ভেজা, তখন ২–৪ ফোঁটা তেল হাতে নিয়ে চুলের মাঝামাঝি থেকে ডগা পর্যন্ত লম্বায় লাগান, স্কাল্পে নয়। তবে শুকনো চুলে অতিরিক্ত দিলে চুল চিটচিটে দেখাতে পারে। ধোয়ার আগে প্রি–ওয়াশ হিসেবে নারকেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে কিউটিকল সুরক্ষিত থাকে

যে ভুলগুলো ফ্রিজ বাড়ায়:
☞ বেশি গরম পানিতে চুল ধোয়া

☞ তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষা

☞ঘন ঘন শ্যাম্পু করা

☞ হিট স্টাইলিং বেশি করা

☞ শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার না ব্যবহার করা

এসব কারণে কিউটিকল খোলা থাকে, ফলে আর্দ্রতা সহজে ঢুকে ফ্রিজ বাড়ায়।

তেলের সঙ্গে আরও যা করা যেতে পারে:
⇨ সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু

⇨ নিয়মিত কন্ডিশনিং

⇨মাইক্রোফাইবার তোয়ালে বা পুরোনো টি–শার্ট দিয়ে চুল মুছা

⇨ বাইরে বের হওয়ার আগে হালকা তেল বা সিরাম ব্যবহার করা।

আর্দ্র আবহাওয়ায় ফ্রিজ পুরোপুরি এড়ানো না গেলেও, সঠিক তেল বেছে নিলে চুলের কিউটিকল সুরক্ষিত থাকে এবং উড়ন্ত ভাব অনেকটাই কমে।  
 


সম্পর্কিত নিউজ