{{ news.section.title }}
দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মদিনে সি-উইড স্যুপ খাওয়ার ঐতিহ্য কেন?
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
দক্ষিণ কোরিয়ান ড্রামা বা সিনেমায় জন্মদিনের দৃশ্যে ধোঁয়া ওঠা এক বাটি সবুজ রঙের স্যুপ প্রায়ই চোখে পড়ে। এটি কেবল একটি সুস্বাদু খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং কোরিয়ান সংস্কৃতির অন্যতম আবেগী ও ঐতিহাসিক এক স্তম্ভ। যার নাম ‘মিয়েওক-গুক’ (Miyeok-guk) বা সি-উইড স্যুপ। পশ্চিমা বিশ্বে জন্মদিনে কেক কাটার ধুম থাকলেও, কোরিয়ায় দিনটি শুরু হয় এই পুষ্টিকর স্যুপ খাওয়ার মাধ্যমে, যা মা ও সন্তানের নাড়ির টানকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
ঐতিহাসিকভাবে, সি-উইড বা সামুদ্রিক শৈবাল আয়োডিন এবং ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ হওয়ায় কোরিয়ায় প্রসূতি মায়েদের দ্রুত সেরে ওঠার জন্য এবং বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য এই স্যুপ খাওয়ানো হতো। জানা যায়, মায়েরা যখন সন্তান জন্ম দেন, তখন সেই কষ্টের স্বীকৃতি স্বরূপ এবং সুস্থতা কামনায় এই স্যুপের প্রচলন শুরু হয়। আর সেখান থেকেই পরবর্তীকালে প্রতিটি জন্মদিনে এই স্যুপ খাওয়ার রীতি গড়ে ওঠে, যাতে সন্তান বড় হয়েও তার জন্মের দিনটিতে মায়ের সেই ত্যাগ আর ভালোবাসার কথা ভুলে না যায়।
ধীরে ধীরে এই খাবারটি শুধু মাতৃত্বের সময়ই সীমাবদ্ধ থাকল না, জন্মদিনে খাওয়ার রীতিতে রূপ নিল। এর মূল অর্থ হলো-
একটা জন্মদিন শুধু সেই ব্যক্তি নিজেই উদযাপন করে না। বরং এটি মায়ের ত্যাগ, পেশিশ্রম ও প্রেমের স্মরণ, যিনি জন্ম দিয়েছেন। তাই জন্মদিনে সি-উইড স্যুপ খাওয়া অর্থে দাঁড়ায় অন্তর্নিহিত কৃতজ্ঞতারই মন্তব্য। কোরিয়ান সমাজে পারিবারিক বন্ধন ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রীতি সেই মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করে। ফেসবুক পোস্টের শুভেচ্ছা বা ঘরোয়া পার্টির বাইরে গিয়ে, জন্মদিনের খাবারই হয়ে উঠে তাদের কাছে চিরন্তন ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের মাধ্যম।
কিছু লোক মত করে থাকেন যে এই রীতি প্রাচীন সময়ে প্রকৃত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। কোরিয়ায় একসময় দেখা হতো যে মা তিমি (whale) সন্তানের জন্মের পরে সমুদ্রের শ্যাডসীয় (seaweed) খেত। লোকেরা মনে করেছিল শ্যাডসীয় খাওয়া সেই তিমিকে শক্তি ও রক্তের ভারসাম্য ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করেছে, এবং তখ তাঁরা মানুষের ক্ষেত্রেও একই পুষ্টিগত মূল্য উপলব্ধি করতে শুরু করেছিল । এই পর্যবেক্ষণ পরবর্তীতে লোকজ কাহিনীর মাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছিল।
সামাজিকভাবে মিয়েওক-গুক খাওয়ার অর্থ হলো সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা। কোরিয়ানরা বিশ্বাস করেন, এই স্যুপ কেবল শরীর গঠন করে না, বরং এটি তাদের বংশ পরম্পরা এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীকও বটে। একটি সাধারণ বাটি থেকে উঠে আসা ভাপানো সুগন্ধ আসলে কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন কোরিয়ান সংস্কৃতির গভীর মমত্ববোধ আর কৃতজ্ঞতারই প্রকাশ।