{{ news.section.title }}
এক্সপোজার থেরাপি কীভাবে ফোবিয়া কমায়! শিখুন ধাপে ধাপে
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
লিফটে উঠতে বুক ধড়ফড় করা! ভিড়ের মধ্যে দম আটকে আসা, কিংবা হাত পরিষ্কার করার পরও বারবার ধোয়ার এক অদম্য অস্বস্তিবোধ! আমাদের অনেকের জীবনেই ভয় বা আতঙ্ক এমন এক দেয়ালে পরিণত হয় যা দৈনন্দিন জীবনকে স্থবির করে দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এগুলো কেবল মনের ভুলই না, বরং ফোবিয়া, প্যানিক অ্যাটাক বা ওসিডির (OCD) মতো জটিল মানসিক অবস্থা। কিন্তু এই অন্ধকারের সমাধান কী?
মনোবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, যে জিনিসকে আপনি সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছেন, তার সামনে দাঁড়ানোই হতে পারে মুক্তির একমাত্র পথ, যাকে বলা হয় এক্সপোজার থেরাপি (Exposure Therapy)। সাধারণত ভয় পেলে আমাদের মস্তিষ্ক সেই পরিস্থিতি থেকে পালানোর সংকেত দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ভয়কে আরও বেশি বাড়িয়ে তোলে।
কোনো একসময়ের খারাপ অভিজ্ঞতা, ভুল ধারণা বা অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে মস্তিষ্ক কোনো একটি বিষয়কে বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলে। এরপর সেই বিষয় সামনে এলেই শরীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকে। হৃদস্পন্দন বাড়ে, ঘাম হয়, শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠে। মস্তিষ্ক ভাবে,এটা বিপজ্জনক, এখন পালাতে হবে। যত বেশি এড়িয়ে চলা হয়, মস্তিষ্ক তত বেশি বিশ্বাস করে যে ভয়টা সত্যি। এভাবেই ভয় স্থায়ী হয়ে যায়। এক্সপোজার থেরাপি এই চক্রকে ভাঙে।
এক্সপোজার থেরাপি কীভাবে কাজ করে?
এক্সপোজার থেরাপির মূল মন্ত্র হলো, ভয় থেকে পালিয়ে না গিয়ে তাকে সরাসরি মোকাবিলা করা। তবে এটি হঠাৎ করেই করা হয় না, বরং অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হয়, যাকে বলা হয় গ্র্যাজুয়াল এক্সপোজার।
এক্সপোজার থেরাপিতে রোগীকে একটি নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ধীরে ধীরে তার ভয়ের উৎসের মুখোমুখি করা হয়। এটি অনেকটা সাঁতার শেখার মতোই বলা যায়। প্রথমে অল্প পানিতে নামা, আর তারপর গভীরে।
যেমন: যদি কারো কুকুরের প্রতি তীব্র ভীতি থাকে, তবে থেরাপিটি এভাবে করা যেতে পারে-
☞ প্রথম ধাপে ভিজুয়ালাইজেশন করা, অর্থাৎ কুকুরের ছবি বা ভিডিও দেখা।
☞ দ্বিতীয় ধাপে দূরত্ব বজায় রাখে বা জানালার ওপাশ থেকে একটি কুকুরকে দেখা।
☞ তৃতীয় ধাপ হলো সরাসরি উপস্থিতি। একই ঘরে বা নির্দিষ্ট দূরত্বে কুকুরের উপস্থিতিতে থাকা।
☞ চতুর্থ ক্ষেত্রে স্পর্শ করা। ভয় কাটিয়ে কুকুরটিকে আলতোভাবে স্পর্শ করা।
প্রতিটি ধাপে ব্যক্তি যখন দেখে যে সে ভয় পেলেও বাস্তবে তার কোনো ক্ষতি হচ্ছে না, তখন মস্তিষ্কের ভয় নিয়ন্ত্রণকারী অংশ, অ্যামিগডালা শান্ত হতে শুরু করে। একে বলা হয় হ্যাবিচুয়েশন। মস্তিষ্ক তখন পুরনো ভয়ংকর অভিজ্ঞতাকে, নতুন নিরাপদ অভিজ্ঞতা দিয়ে পরিবর্তন করে ফেলে। ফলে একসময় ভয়ের উৎসটি তার কাছে আর আতঙ্কের মনে হয়না।
কোন সমস্যায় এটি বেশি কার্যকর?
এক্সপোজার থেরাপি বিশেষভাবে কার্যকর বিভিন্ন ফোবিয়া (উচ্চতা, অন্ধকার, প্রাণী, উড়োজাহাজ), প্যানিক ডিসঅর্ডার, সামাজিক ভয় (সোশ্যাল অ্যানজাইটি), অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD), ট্রমা-পরবর্তী ভয় ও এড়িয়ে চলা প্রবণতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে।
এড়িয়ে চলা কেন সমস্যা বাড়ায়?
ভয় পেলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সবকিছুই এড়িয়ে চলতে চায়। সাময়িক স্বস্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদে এটি সমস্যাকে আরও শক্তিশালী করতে থাকে।
মস্তিষ্ক মনে করতে থাকে, এড়িয়ে যাওয়াই হয়তো নিরাপদ। ফলে দিন দিন ভয় আরও গভীর হতে থাকে। এক্সপোজার থেরাপি এই এড়িয়ে চলার অভ্যাসকে ভেঙে দেয়।
অনেকে ভাবেন, নিজে নিজেই ভয় পাওয়া জিনিসের সামনে দাঁড়ালেই হয়তো হয়ে যাবে। তবে বাস্তবে ভুলভাবে পদক্ষেপের ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
সাধারণত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের তত্ত্বাবধানে একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এই থেরাপি করা হয়। কখন থামতে হবে, কখন এগোতে হবে এগুলো বোঝতে পারাটাও গুরুত্বপূর্ণ।
এই থেরাপিতে কাউকে জোর করে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়া হয় না। বরং ব্যক্তি নিজেই ধাপে ধাপে প্রস্তুত হয়। সম্পুর্ণ নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই থাকে।
তবে এটি কিন্তু কোনো দ্রুত সমাধান নয়, বরং ধৈর্য, অনুশীলন এবং সঠিক নির্দেশনায় এগোনোর একটি পথ। এটি বুঝতে সেখায় এক্সে,ভয়কে জয় করার প্রথম ধাপই হলো ভয়ের দিকেই তাকানো।